বুধবার, মার্চ ১৮, ২০২৬

প্লে-অফের কঠিন বাধা টপকালে আজ্জুরিরা বিশ্ব কাপে সহজ গ্রুপে

আপডেট:

ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ইতালি যদি আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ বাধা টপকাতে পারে, তবে তারা ‘গ্রুপ বি’-তে কানাডা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। প্লে-অফে আজ্জুরিদের লড়তে হবে উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং বসনিয়ার মতো দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ১১ জুন এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই ২০২৬। ড্র অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প মজা করে বলেন, “একে ফুটবল বলা হলেও আমাদের আমেরিকান ফুটবল নামটা হয়তো পাল্টানো উচিত ছিল। অনুষ্ঠানের মঞ্চ আলোকিত করেছেন টম ব্র্যাডি, শাকিল ও’নিল এবং বেসবল তারকা অ্যারন জজের মতো কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদরা।বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর অন্যতম আলোচ্য বিষয় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং ব্রুট হালান্দের মুখোমুখি হওয়া। ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার রাতে ড্রতে গ্রুপ ‘আই’-তে ফ্রান্স ও সেনেগালের সঙ্গী হয় নরওয়ে। গ্রুপের অন্য দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ বিজয়ী ২, যেখানে উঠে আসবে ইরাক, বলিভিয়া অথবা সুরিনাম। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় অন্যবারের মতো তেমন কোনো ‘গ্রুপ অব ডেথ’ দেখা যায়নি। তবে গ্রুপ পর্বেই এমবাপ্পে ও হালান্দের মতো সময়ের অন্যতম দুই সেরা স্ট্রাইকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে রোমাঞ্চ ছড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ড্রয়ের পর একই কথা জানিয়ে রাখলেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটির কথা মনে আছে? মেক্সিকোর বিপক্ষে স্বাগতিক তারকা সাবালালার গোলের পর পিটার ড্রুরির সেই গায়ের লোম জাগানো ধারাভাষ্য এখনও কানে বাজে ফুটবলপ্রেমীদের। ম্যাচটি মাঠে গড়ায় স্থানীয় সময় ১১ই জুন। সেই ১১ই জুনেই ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফের মাঠে নামবে এই দু’দল। তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্বাগত জানাবে মেক্সিকো। এরপর ১৬ই জুন রাতে মাঠে গড়াবে সেই বহুল আলোচিত ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ। ক্লাব ফুটবলের চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পে ও ম্যানচেস্টার সিটির হালান্দ। যথাক্রমে ১৬ ও ১৫ গোল করে দু’জনই শীর্ষে স্প্যানিশ লা লিগা ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে। ইউরোপে শীর্ষ পাঁচ লীগের মধ্যে এখন পর্যন্ত শীর্ষে এ দুই গোলমেশিনই। হালান্দ-এমবাপ্পের দ্বৈরথ যে আসন্ন বিশ্বকাপে আলাদা রোমাঞ্চ ছড়াবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ দেখছেন না ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় ও বর্তমান কোচ দেশম। ড্রয়ের পর তিনি বলেন, ‘দারুণ এক দ্বৈরথ হবে। দু’দলেই আরও অনেক বড় নাম আছে, তবে কিলিয়ান ও হালান্দ দুজনই বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত খেলোয়াড়, এবং তারা দুজনই সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।’ অন্যদিকে, সাদিও মানের সেনেগালকে নিজেদের গ্রুপে পেয়ে তেতো অভিজ্ঞতাই মনে পড়ছে ফ্রান্সের। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালকে একই গ্রুপে পায় সেবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত