স্রেফ ৭ মাস ১৭ দিনের মাথায় ‘ঘরের ছেলে’ শাবি আলোনসোর সঙ্গে সম্পন্ন ছিন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে নামার আগে সুতোয় ঝুলছিল রিয়াল কোচের চাকরি। বিষয়টি জানতেন দলের ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তার স্বদেশি গণমাধ্যমের দাবি, আলোনসোর চাকরি বাঁচাতে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি!সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হওয়া ফাইনালে এমবাপ্পের খেলার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। হাঁটুর চোটে বছরের শুরুতেই ছিটকে যান এ বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড। অন্তত জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল তার। এদিকে, সুপার কাপের ফাইনালই ছিল কার্যত আলোনসোর জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। সে ম্যাচে বদলি হিসেবে নামেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। তবে শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। ৩–২ গোলের হারের পরই আলোনসো বরখাস্ত করে রিয়াল। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপের দাবি, চিকিৎসকদের স্পষ্ট নিষেধ সত্ত্বেও গুরুতর হাঁটুর চোট নিয়েই মাঠে নামেন এমবাপ্পে। আলোনসোর প্রতি তার ব্যক্তিগত আস্থা ও ঘনিষ্ঠতার কারণেই এ ঝুঁকি নেন তিনি। দলকে জয় এনে দেয়ার প্রচেষ্টায় বাজি রাখেন নিজের নিজের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাকে।রিয়ালের মেডিকেল দল আগেই স্পষ্ট করে জানায় যে, এ চোট নিয়ে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবু চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকা আলোনসো শেষ দিকে হলেও এমবাপ্পেকে নামাতে আগ্রহী ছিলেন। কোচের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ৭৬তম মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলি হিসেবে নামেন ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচের আগে ব্যথানাশক ইনজেকশন নেয়ার গুঞ্জন থাকলেও, বাস্তবে তেমন কিছু ছাড়াই ব্যথা সহ্য করে খেলেন তিনি। আলোনসোকে ছাটাইয়ের ঘোষণার স্রেফ দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে রিয়াল ফরোয়ার্ড লেখেন, ‘অল্প সময় হলেও আপনার সঙ্গে খেলতে ও শিখতে পারা ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রথম দিন থেকেই বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে একজন দূরদর্শী কোচ হিসেবেই মনে রাখব।যদিও ম্যাচের পর অন্য একটি বিষয় আলোনসো ও এমবাপ্পেকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করায়। পুরস্কার বিতরণীর সময় প্রথাগতভাবে বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার কথা থাকলেও, এমবাপ্পে তার সতীর্থদের মাঠ ছেড়ে যেতে তাড়া দিচ্ছিলেন। এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে থেকে যেতে বলছেন আলোনসো। তবে এমবাপ্পে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত শিষ্যের দাবি মেনে নেন তিনি। ফলে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পর বার্সাকে কোনো ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়নি।

