মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬

ইন্দো -প্যাসিফিক অঞ্চলের কারনে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেশী বোয়িং কিনার সম্পর্ক নেই

আপডেট:

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে নিতে ফ্রান্সের ইচ্ছার পেছনে পুরোপুরি বাণিজ্যিক বিষয় জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই।ফ্রান্সের জাতীয় দিবস ঘিরে দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্স যে কৌশলগত অংশীদারত্বের উন্নয়ন ঘটাতে চায়, তার সঙ্গে এয়ারবাস উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তির বিষয়টিকে মেলানো ‘ভুল’।দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমান সময়ের মত করে আগে কখনও ‘বলিষ্ঠ হয়নি’ মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিগত মাসগুলোতে আমার কাছে অনেকবার জানতে চাওয়া হয়েছে, এ অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদার থাকার মধ্যেও ফ্রান্স কেন বাংলাদেশের দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি করতে চাচ্ছে?
রাষ্ট্রদূতের ব্রিফিংয়ের আগের দিনও মঙ্গলবার ঢাকায় বোয়িংয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি দল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বোয়িং কিনলে লাভের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাদের দাবি, অন্য কোনো নির্মাতার চেয়ে তাদের উড়োজাহাজের দাম কম এবং পুরো প্রস্তাব আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী, যাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিমান লাভবান হবে।চারটি যাত্রীবাহী এবং দুটি কার্গো উড়োজাহাজ বিক্রি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের এ কোম্পানি, যা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিমান বাংলাদেশ। বোয়িং চাচ্ছে, বাংলাদেশ যেভাবে কমিটি গঠন করে এয়ারবাসের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে, সেভাবে যেন তাদের উড়োজাহাজের বিষয়েও মূল্যায়ন করা হয়। বোয়িংয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে সেই মূল্যায়নের আশ্বাস পাওয়ার দাবি করেছেন।সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকার মধ্যে এ যাত্রায় এয়ারবাস থেকেই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে মে মাসের শেষে স্পষ্ট ধারণা দেন বিমানের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শফিউল আজিম। এয়ারবাসের বিষয়টিকে এড়িয়ে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছার পেছনে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই।তিনি বলেন, “পৃথিবীর এ অংশের স্থিতিশীলতার জন্য আপনাদের দেশের ভাগ্য ও পথচলা গুরুত্ব বহন করে, যেটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রে রয়েছে।“এ অঞ্চলে আপনাদের দেশ গুরুত্বপূর্ণ, এ ধারণার উপর ভিত্তি করেই ফ্রান্সের সম্পর্ক তৈরির আগ্রহ।”অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ফ্রান্সের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক কেবল সামনের দিকেই এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সাহিত্যিক অঁদ্রে মালরোসহ ফরাসি কবি-সাহিত্যিক ও নাগরিক সমাজের জনমত গঠনের কথাও সময় স্মরণ করেন আইনমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত