মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬

সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল প্রকল্প বহাল থাকবে।

আপডেট:

সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সম্পন্ন হওয়া সব প্রকল্প ও চুক্তি বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পাশাপাশি যেসব প্রকল্প চলমান ও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, এরই মধ্যে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলোর কারণে একদিকে যেমন ভোক্তার ওপর ভয়াবহ চাপ বেড়েছে অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। বর্তমান প্রকল্পগুলোর চুক্তি সংশোধন ছাড়া বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে ২০১০ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ আইনের আওতায় ১৪ দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ। এরপরও ২০০৮-০৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পাশাপাশি সরকারি কোষাগার থেকে সংস্থাটিকে ভর্তুকি হিসেবে দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি
শেখ হাসিনার শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক দেনা তৈরি করেছে। বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং জ্বালানি খাতে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পড়েছে। এসব দায়দেনা তৈরি হয়েছে সরকারের অনৈতিক সুবিধা ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে। ফলে বিদ্যুৎ খাত ঘুরে দাঁড়াতে হলে আওয়ামী লীগ শাসনামলে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো রিভিউ করে দেখতে হবে বলে জানান এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।বিদ্যুতের নীতি ও গবেষণা সংস্থা পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অপ্রয়োজনীয় যেসব ‍চুক্তি করা হয়েছে সেগুলো রিভিউ করা যেতে পারে। এজন্য করা যেতে পারে একটি রিভিউ কমিটি। এর সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করে তাদের মতামত নেয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এসব চুক্তি রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান যদিও গতকাল সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ বিধানের আওতায় আগে যেসব চুক্তি হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তবে এ আইনের আওতায় যেসব প্রকল্প চলমান সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।বিদ্যুতের নীতি ও গবেষণা সংস্থা পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অপ্রয়োজনীয় যেসব ‍চুক্তি করা হয়েছে সেগুলো রিভিউ করা যেতে পারে। এজন্য করা যেতে পারে একটি রিভিউ কমিটি। এর সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করে তাদের মতামত নেয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এসব চুক্তি রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান যদিও গতকাল সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ বিধানের আওতায় আগে যেসব চুক্তি হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তবে এ আইনের আওতায় যেসব প্রকল্প চলমান সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এক বৈঠক শেষে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষ বিধানের অধীনে চলমান সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কারণ যেহেতু চুক্তি হয়ে গেছে তাই চাইলে তা বাতিল করা যাবে না। এজন্য আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে হবে।বিশেষ আইনটি বাতিলের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এজন্য উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক তাতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে।২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ আইনের আওতায় শুধু বিদ্যুৎ খাতে ৯১টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। দেশে ১৫৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হয়েছে এ আইনে। বিশেষ করে ২০১০ ও ২০১১ সালের দিকে বিদ্যুৎ খাতের রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল এ আইনের আওতায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দুই ও পাঁচ বছর মেয়াদি এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে। ব্যয়বহুল এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নানা সময়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে এ খাতের অনেক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন। সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সংসদে দেয়া হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামিট গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, ব্যাংলা ক্যাট, আরপিসিএল, কেপিসিএল, মোহাম্মদী গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান। তারা ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে গ্যাসভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা অন্তত ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। গ্যাসের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২০১৮-২০ সালের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনেকগুলোকে কমিশন ও রাজনৈতিক বিশেষ তদবিরে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। বিপুল অর্থায়নে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এখনো এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের সংস্থান করা যায়নি। বরং এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র আগামীতে গ্যাস দিতে না পারলে বসিয়ে রেখে বিপিডিবিকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত