বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

এক বছর সময় পেলে বিচার বিভাগের সোনালী অতীত ফিরে পাবে

আপডেট:

দলবাজ বিচারক সুশাসনের অন্তরায় উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনটি সংস্কার প্রস্তাবের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। যত ভালো আইনই করা হোক না কেন, সংস্কার মানার মানসিকতা না থাকলে কোনো কিছুই কাজে আসবে না।গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: বিচার বিভাগ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই– উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নে সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সংস্কার কমিশন মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন। বিচার বিভাগকে এমন সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল এবং তাদের কর্তৃত্ব সুসংহত করতে ব্যবহার করা হয়েছে। তখন অনেকে দোষী প্রমাণিত না হয়েও দীর্ঘ সময়ের জন্য আটক ছিলেন এবং জামিনের আবেদনগুলো প্রায়ই প্রত্যাখ্যান করা হতো। দেশে যদি প্রতি পাঁচ বছর পরপর সুষ্ঠু নির্বাচন হতো এবং নির্বাচিত দল সরকার গঠন করত, তাহলে ক্ষমতাসীনরা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে এতটা স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারত না।আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারে আরও বছরখানেক সময় পেলে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার কাজগুলো করে যাওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ঐকমত্য শক্ত থাকলে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার সহজে এই সংস্কারগুলো বদলাতে বা বাতিল করতে পারবে না। মামলাজট কমানোর দ্রুত উদ্যোগ না নিলে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনজ্ঞরা। আদালতে ঝুলে থাকা ৪৪ লাখের বেশি মামলা নিষ্পত্তিতে ৩০ বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।সিজিএস চেয়ারম্যান মুনিরা খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক জিল্লুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত