সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এবং মহাব্যবস্থাপক (এডমিন) কমান্ডার (অব.) আবু সাইদ ভোলা থেকে গ্যাস আনার নানা কারিগরি বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। আরও বক্তব্য দেন ইন্ট্রাকোর চিফ অপারেটিং অফিসার এহসানুল হক পাটোয়ারি, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) মোমিন মোল্লাহ প্রমুখ।কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম্প্রেসন এবং পরিবহনের লক্ষ্যে ইন্ট্রাকো ভোলার বোরহানউদ্দিনে ১০৬ শতক জমির ওপর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এ ছাড়া কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় কম্প্রেসর কেনার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে উৎপাদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া ইন্ট্রাকো ইতোমধ্যে সুন্দরবন গ্যাস অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণ লাইন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে এবং মূল্যায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইন্ট্রাকো বলছে, ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ভোলা হতে সরাসরি খুলনায় পরিবহন করে খুলনাস্থ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবারহ করতে পারবে তারা। ওই এলাকায় তিনটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ আছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশাল নদী পেরিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হলেও সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার উপায় খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, ভোলায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট টিসিএফ গ্যাস আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ধারণা করছে ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বীপজেলা হওয়ায় সেখানে তেমন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে গ্যাসের ব্যবহারও নেই। ভোলায় উত্তোলন করা গ্যাসের মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার হচ্ছে ৫ এমএসসিএফডি গ্যাস।ভোলায় গ্যাস আছে, এমন প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালে। এরপর ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত জরিপ করে গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে শাহবাজপুর চিহ্নিত করা হয়। পাকিস্তান সেল অয়েল কোম্পানি সিঙ্গেল কনডাকটেড ২ডি সিসমিক জরিপ করে। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪-৭৫ সালে ফেইস-২ প্রকৃত সিসমিক জরিপ করা হয়। ফেইস-৩ এ ১৯৮৭ সালে ফের সিসমিক জরিপ করে। ওই জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৯৪ সালে শাহবাজপুর-১ গ্যাসক্ষেত্রে খনন শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে উত্তোলন করা গ্যাসে আগুন প্রজ্বলন করা হয়। এর ২৭ বছর পর বিগত সরকারের আমলে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয় ফেইস-৪ হিসেবে নতন গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করার। পরে ২০১৪-১৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ করে দুটি আলাদা গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়
ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রুপান্তর করার চেষ্টা
আপডেট:

