শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে

আপডেট:

পানির ‘ন্যায্য হিস্যা আদায়ে’ দরকার হলে আন্তর্জাতিক আদালত এবং জাতিসংঘে যাবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ রোডে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ উল্লেখ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ফারাক্কার কারণে আজ পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এক সময় সুজলা সুফলা সবুজে ছায়া ছিল, সেখানে পদ্মা নদীর পানির অভাবে ধীরে ধীরে কীভারে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। দরকার হলে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবো, আমরা জাতিসংঘে যাবো দরকার হলে। আমাদের পানির হিস্যা বের করে নিয়ে আসতে হবে। আবার আমাদের পদ্মা নদীতে পানির ব্যবস্থা করতে হবে।এখন স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কি চেয়েছিলাম, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা, জনগণের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করা। আজ স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে। জনগণের শাসন ও তাদের রাজনৈতিক অধিকার আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সারাবিশ্বে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল পন্থা হলো তাদের সরাসরি ভোট প্রয়োগের ব্যবস্থা করা। সেই ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে, জনগণের উন্নয়নের জন্য কে আগামীদিনে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত এদেশকে পরিচালনা ও কাজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখছি, অন্তর্বর্তী সরকার সেই পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী রমজানের আগে ইনশাআল্লাহ দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের অধিকারে প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে। এখন শুধু ভোট হলেই হবে না, ভোটের মাধ্যমে শুধু সরকার গঠন করলেই হবে না। সাধারণ মানুষ আপনাদের (বিএনপি’র নেতাকর্মী) কাছে জানতে চায়, দেশের ভবিষ্যৎ কি, আগামীদিনে বিএনপি কীভাবে কি করবে- কেন জানতে চায়? কারণ দেশের জনগণ, অধিকাংশ জনগণ বিএনপি’র ওপর আস্থা রাখতে চায়। আমরা দৃৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ দেশের অধিকাংশ জনগণের সমর্থন ধানের শীষ তথা বিএনপি পাবে।নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি তাহলে আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারবো না। জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের উপরে আছে। কিন্তু এই বিশ্বাস এবং আস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব জনগণের না। এটা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমাদের প্রতিজ্ঞা দুটি, এক ঐক্যবদ্ধ থাকা, দুই আগামীদিনে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দেশ আমরা পুনর্গঠন করবো।
মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এরশাদ আলী এশার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুনের সঞ্চালনায় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ জেলা ও মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত