দখলদার ইসরাইলের অবরোধ ভাঙতে গাজা অভিমুখে যাচ্ছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন বহরের জাহাজ কনশেনস। এই নৌযানেই রয়েছেন বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। থাউজেন্ড ম্যাডলিনস নৌবহরে থাকা ছোট ও ধীরগতির নৌযানগুলোকে সঙ্গে রাখতে মাঝে ভূমধ্যসাগরে নোঙ্গর করে কনশেনস। তবে এখন সেগুলো তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সেই যাত্রা পুনরায় চালু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বুধবার সকালে গাজা অভিমুখী কনশেনস জাহাজটি ‘রেড জোন’ তথা ইসরাইলি বাহিনীর আওতাধীন স্থানে পৌঁছতে পারে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমরা আগামীকাল সকালে ‘রেড জোনে’ পৌঁছানোর আশা করছি।
পোস্টে আরও লেখেন, আজ ২০২৫ সালের ৭ই অক্টোবরের সকাল। দুই বছর আগে এই দিনে ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস এবং ফিলিস্তিনের অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপ। যাতে ৮১৫ জন বেসামরিক ইসরাইলি নাগরিকসহ মোট ১১৯৫ জন নিহত হন। আর ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্ত করতে ইসরাইল থেকে ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। এরপর গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইসরাইল। এতে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অর্ধেকের বেশি নারী এবং শিশু। আহতের সংখ্যা এক লাখ ৬৯ হাজার। শহিদুল আলম লেখেন, আমরা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের আওতাভুক্ত কনশেনস জাহাজে রয়েছি। এটি আগে সুমুদ ফ্লোটিলার অংশ ছিল। যেই বহরটি ফিলিস্তিনের ওপর অবরোধ ভাঙতে চেয়েছিল। তবে তাদেরকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আটক করেছে। আমরা এখন (গাজার দিকে) এগিয়ে যাচ্ছি। কনশেনস জাহাজের বেশির ভাগ আরোহী সাংবাদিক এবং স্বাস্থ্যকর্মী। পেশাদার এ দুই গ্রুপকে টার্গেট করেই সবচেয়ে বেশি হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। সাংবাদিক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে গাজায় ইতিহাসের নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তারা। পেশাদার এই দুই গ্রুপই ইসরাইলি হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।ফেসবুক পোস্টে শহিদুল আলম লেখেন, থাউজেন্ড ম্যাডলিনস-এর ছোট এবং ধীরগতির নৌযানগুলোকে আমরা পেছনে না ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও আমরা সুমুদ ফ্লোটিলার চেয়ে দ্রুত এগিয়েছি। তবে ধীরগতির নৌযানগুলো এখন আমাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। আমরা ‘রেড জোন’ থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে আছি। এই ‘রেড জোন’ হলো সেই অঞ্চল যেখানে অতীতে ইসরাইলি বাহিনী অবৈধভাবে আগের জাহাজগুলো আটক করেছে।
দখলদার ইসরাইলের অবরোধ ভাঙতে গাজা গাজার কাছাকাছি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী ড. শহিদুল আলম
আপডেট:

