প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জমির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কৃষিজমির অপরিকল্পিত ব্যবহাররোধে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’। এর ফলে কৃষিজমির ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব। অনুমতি ছাড়া স্থাপনা করলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশটি সর্বশেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমাদন দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কৃষি জমি, খাল, পাহাড়, বনভূমি, জলাভূমি, নদ-নদীসহ জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। এ জন্য বাংলাদেশ ভূমি ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ থাকবে। ভূমির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে ১৪টি জোনে। কৃষি অঞ্চল বলা হচ্ছে প্রধান কৃষি জমিকে। এ ছাড়া কৃষি-মৎস্য অঞ্চল, নদী ও খাল, জলাশয়, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও বৃক্ষরোপণ অঞ্চল, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড়-টিলা এ রকম পৃথক জোন রয়েছে।কৃষিভূমি সুরক্ষার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহার করে স্বীয় কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপসনালয়, কবরস্থান, সমাধি, গুদামঘর, পারিবারিক ব্যবহারের জন্য পুকুর, দোকানপাট, কুটিরশিল্পসহ বসতবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত স্থাপনাদি নির্মাণ করতে পারবেন। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমির অতিরিক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না। জমির ব্যবহারভিত্তিক সর্বোচ্চ সিলিং বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে। বন, জলাভূমি, নদী, পাহাড় ও টিলা শ্রেণি এবং সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশে ব্যবহার করা যাবে না। তবে এ উপধারার কোনো ভূমিতে কৃষিকাজের উদ্দেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে নাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ভূমি জোনিং ম্যাপ অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিতকরণ সাপেক্ষে সরকার দেশের কোনো অঞ্চল বা এলাকাকে বিশেষ কৃষি অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, ফার্ম, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সমিতি বা সংঘ এ আইনের ধারা লঙ্ঘন করলে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। কোনো ব্যক্তি প্রথমবার অপরাধ করলে অনধিক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই ব্যক্তি বার বার অপরাধ করলে অনধিক ২ বছর বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো কোম্পানি বা গোষ্ঠী করলে প্রত্যেকেই অনধিক ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পুনর্বার একই অপরাধ করলে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত হিসেবে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে বা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।কৃষিভূমি সুরক্ষার সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছেÑ অপরিকল্পিত নগরায়ন, আবাসন বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কাজ, শিল্পকারখানা স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক কারণে প্রতিনিয়ত ভূমির প্রকৃতি ও শ্রেণিগত ব্যবহারের পরিবর্তন হচ্ছে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ও জলাশয় বিনষ্ট হয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের নিমিত্ত কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অধ্যাদেশে কৃষি জমির সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে।।অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়Ñ এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ নামে সরকার একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কার্যপদ্ধতি বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের চাকরি বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ রকম বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া এ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গঠন না হওয়া পর্যন্ত ভূমি সংস্কার বোর্ড সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে।

