শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে ঢাকা-রোম নতুন অঙ্গীকার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর সহযোগিতার আশ্বাস

আপডেট:

​ঢাকা: বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধন আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং ইতালীয় রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বৈঠকে ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
​বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:ইতালি বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের জাদুঘরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইতালীয় রাষ্ট্রদূত।
​সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (CEP)
​২০২৩ সালের ২৫ জুলাই ইতালির রোমে দুই দেশের মধ্যে যে ‘সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি’ (CEP) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় দুই দেশের শিল্পীদের কাজের বিনিময় এবং যৌথ সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও গতিশীল হবে।
​অভিবাসী কমিউনিটি ও শিক্ষা সহযোগিতা
​রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো ইতালিতে বসবাসরত বিশাল বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রশংসা করে বলেন, “তারাই মূলত দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের প্রধান কারিগর এবং সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।” এছাড়া বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নোক্ত সুযোগগুলো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়:
​উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপের সংখ্যা বৃদ্ধি।
​গবেষণা ও ফেলোশিপের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা।
​বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশ বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভেনিস বিয়েনাল এবং মিলান এক্সপোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কতটা গভীর ও নিবিড়।বৈঠক শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ইতালির এই কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং মৈত্রীর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত