বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

লিবিয়া উপকূলে ‘লাইফ সাপোর্ট’-এর সফল অভিযান: ৬৮ অভিবাসীকে উদ্ধার

আপডেট:

ভূমধ্যসাগর: আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুটি পৃথক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৬৮ জন অভিবাসীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে ইমার্জেন্সির উদ্ধারকারী জাহাজ ‘লাইফ সাপোর্ট’। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন।
​উদ্ধার অভিযানের বিবরণ ভোরে লিবিয়া উপকূল থেকে প্রায় ৩২ মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। উদ্ধারকারী দলটি জানায়, ‘অ্যালার্ম ফোন’ নামক একটি জরুরি সেবা সংস্থা থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর তারা অনুসন্ধান শুরু করে এবং ভোরে একটি ভাসমান রাবার ডিঙি শনাক্ত করে। সেখান থেকেই প্রথম পর্যায়ের অভিবাসীদের নিরাপদে জাহাজে তোলা হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি অভিযানে বাকিদের উদ্ধার করা হয়।প্রতিকূলতা ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
​বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার তৎপরতা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মিশন প্রধানরা বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন কোস্টগার্ডের হস্তক্ষেপ: লিবীয় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে প্রায়ই অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং অভিবাসীদের জোরপূর্বক লিবিয়ায় ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা উদ্ধারকাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
​ইতালীয় সরকারের সীমাবদ্ধতা: ইতালীয় সরকার উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত দূরের বন্দর ব্যবহার করার নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে জাহাজগুলো উদ্ধার এলাকা থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকছে এবং জ্বালানি ও সময় অপচয় হচ্ছে।​প্রশাসনিক বাধা: একাধিক উদ্ধার অভিযানের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ এবং প্রায়ই জাহাজগুলোকে প্রশাসনিকভাবে আটকে রাখার ফলে সাগরে নিয়মিত অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”উদ্ধার এলাকা থেকে জাহাজগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখার ফলে বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাগরে দীর্ঘ সময় অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।”
— জোনাথন নানি, মিশন প্রধান, ইমার্জেন্সি।
​বর্তমানে উদ্ধারকৃত ৬৮ জন অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং জাহাজটি সরকার নির্ধারিত বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত