শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

মন্দির ভাঙা আর মসজিদ ভাঙার ধর্ম

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২৭.১২.২০২৩

 

বিজ্ঞাপন

কুরআন গীতা বাইবেল তওরাত কোথাও বলে নাই ধর্মীয় হানাহানি করতে, বলে নাই এক ধর্মের উপাসনালয় ভেঙে অন্য ধর্মের উপাসনালয় গড়ো। কিন্তু বাস্তবে আমরা ধর্মের নামে বিদ্বেষ ছড়ানো, উপসনালয় ভাঙা ধর্মের প্রধান কর্ম হিসাবে গ্রহন করেছি!

 

বিশ্বাস করুন আমি ৫ ম শ্রেনীর ইতিহাসে রামায়ন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ গজনীর সুলতান মাহমুদ ইখতিয়ার উদ্দিন বিন বখতিয়ার খলজির সাথে পরিচিত হয়েছি, পরিচিত হয়েছও পান্ডব রাজ্য দশরথ রাম রাবনের সাথে, পড়েছি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারন “সারাজাভোর” ঘটনা কিভাবে একজন যুবরাজ হত্যা নিয়ে যুদ্ধ টা বেঁধে গেলো। হতে পারে স্বল্প মাত্রায় জেনিছি কিন্তু স্পর্শ পেয়েছি সেই প্রাইমারি ছাত্র সময় থেকে। শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছি বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়, সুলতান মাহমুদের ১৭ বার ভারত আক্রমণের সাহস দেখে। কিভাবে রাম-লক্ষণ সৎ মায়ের ইচ্ছা পূরনে জঙ্গলে চলে গেলেন, কিভাবে “ভরত” (সম্ভাবতঃ) অনিচছা সত্ত্বেও বড় দাদা রামের খরম জুতা সিংহাসনে রেখে ভাইয়ের নামে দেশ শাসন করেছেন!

 

উচ্চ বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে যখন কুরআনের অর্থ ইংরেজি তে পেয়ে ডিকশিনারির সাহায্য নিয়ে তর্জমা পড়া শুরু করলাম, বিদেশী ইতিহাসবিদদের ইতিহাস পড়া শুরু করলাম শুধু জানার আগ্রহে তখন দেখলাম

গজনীর সুলতান মাহমুদ, বখতিয়ার খিলজির কে নিয়ে গর্ভ করার কিছু নাই। বখতিয়ার ১৭ জন সৈন্য নিয়ে রাজা লক্ষন সেন কে পরাজিত করে

বাংলায় মুসলিম ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন ডাহা মিথ্যা কথা। তিনি নদীয়া দখল করে তিনদিন পর্যন্ত শুধু সোনাদানা লুট করেন এবং ফিরে আসেন তার আবাসে। অর্থাৎ বাংলার ১% ও জয় হয় নাই। লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে যেয়ে উঠেন তার রাজধানী বিক্রমপুর এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ছিলেন। আমার পূর্ব পুরুষ কবি আল মাহমুদ তো মুসলিম বিজয়ে ভাবে গদগদ হয়ে কাব্য লিখে ফেললেন “বখতিয়ারের ঘোড়া”! আমার তো বখতিয়ার কে নিয়ে কবিতা লিখতে ও ঘৃনা হয়। যদি বলি আল মাহমুদ ইতিহাস জানতেন না, আপনারা আমাকে ফাঁসিতে ঝুলাবেন, বাড়ীতে ঢিল ছুড়বেন!

 

মুসলমানদের গর্ব গজনীর সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেছেন ১৬ বার ব্যর্থ ১৭ বারে জয় পেয়েছেন। তিনি ভারতের কোষাগার লুন্ঠন করেছেন সপ্তাহ ধরে এবং ২ কোটি স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে যান। মেনে নিলাম তার লোভ লালসা, কিন্তু ” সোমনাথ ” মন্দির কেন ভেঙেছেন? ইরান পাকিস্তান আফগান ভারতের গুজরাত সহ বিরাট আয়তন শাসন করেছেন। কয়জন লোক মুসলম হয়েছে তার ইসলামি আহ্বানে ৯৯৭ থেকে ১০৩০ পর্যন্ত শাসন আমলে। ইসলাম প্রচার কেউ করেন নাই, তাহলে দিল্লি সবার রাজধানী ছিলো সেখানে আজও ১৮% মুসলমান কেন? কেন তরবারির ভয়ে তো ৮০% মুসলমান আজ থাকার কথা!

সোমনাথ মন্দির আবার প্রতিষ্ঠিত হয় ১০২৬ সালে এমনি ১০ বার মন্দির টি ভেঙে মসজিদ হয়েছে মসজিদ ভেঙে মন্দির হয়েছে!

সব শেষ মন্দির ভেঙে মসজিদ করেন আওরঙ্গজেব সম্ভবতঃ ১৩৭৫ সালের দিকে বাদশাহ শাহজাহানের সুপুত্র যিনি ভাইকে হত্যা ও বাপ কে বন্দী করা মুসলমান।

 

প্রিয় পাঠক, ১৭৮৩ সালে সোমনাথ মন্দির আবার স্হাপন করেন ইন্দোরের রানী “অহল্যা” !

পাশাপাশি কেন মন্দিরে কাছেই মসজিদ হলো না বা মসজিদের কাছে মন্দির হলো না! এমন কোন রাজা বা বাদশাহ ধর্ম পরায়ন ছিলেন আমি মানতে নারাজ!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালো বাসেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত