মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ধর্ম ও মানবতা

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ১৫.০৬.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

“ধর্মের” মনীষী সজ্ঞা হলো বিশ্বাস, অতি ইন্দ্রিয়, অজানা অদেখা বিশ্বস্রষ্টা কে হৃদয়ে ধারন করে তার উপাসনা করা! আধ্যাতিক বিশ্বাসকে আচরণে অনুশীলনে মানবতার সাথে সম্পৃক্ত করা। ইসলাম, সনাতন, খ্রিষ্ট, ইহুদি, বৌদ্ধ, বাহাই ইত্যাদি ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ আছে! সব ধর্ম এবং তার সাংবিধানিক গ্রন্হের কমন বিষয় হলো “মানবতা”! “মানবতা” কিছু মানুষের ভিতর আছে বলে বিশ্ব তার নিজ কক্ষপথে চলছে। বিশ্বে মোট ৪৩০০ ধর্ম চলয়মান! সবার মতে তার ধর্ম শ্রেষ্ঠ! শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে শান্তির পরিবর্তে হানাহানি কাটাকাটি মারামারি লেগেই আছে।

 

বিশ্বে অতি জ্ঞানের অধিকারী যারা ছিলেন যারা মানব কল্যাণে বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেছেন, উড়োজাহাজ, রেলগাড়ী, ডিজেল ইঞ্জিন, আত্মরক্ষার জন্য পরমাণু বোমা, ইউরেনিয়াম, মিশাইল, ড্রোন,কম্পিউটার, পেনিসিলিন, যক্ষ্মা এইডস কোভিড সিফিলিস গনোরিয়া ক্যান্সারের ঔষধ ইত্যাদি, ইত্যাদি আবিষ্কার করে আজীবন মানব কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সেই আইজ্যাক নিউটন, আদ্রে, এডিসন, রাইট ব্রাদার্স, লুই,আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল,গ্যালিলিও, ফ্যারাড, সম্পদ সাম্যবন্টন সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্ক্স, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হোমার, শেলি, আলেক্স হেলি, গেটে, কেউ ধর্মে প্রগাঢ় বিশ্বাসী ছিলেন না! সবাই মানবতাকে ধর্ম মনে করতেন! জ্ঞানী হয়ে ও অদৃশ্য শক্তির প্রতি কোন গবেষণা করার ইচ্ছে ও পোষন করেন নাই! কেউ কেউ ভাবতেন উপরে কোন শক্তি থাকতে পারে তাকে যে নামে ডাকা হোক আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর কোন ফারাক পড়ে না কারন একজন ই থাকতে পারেন তার কোন অংশীদার নাই।

 

এখন যারা ধর্মীয় পান্ডিত্য জাহির করেন তাদের চতুর্মাত্রিক জ্ঞান নাই, মানবতা মনুষ্যত্ব গনতন্ত্র বর্জিত ধর্মের মুখোশে আবৃত! ধর্ম তাদের ব্যবসা রাজনীতি ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি! অবৈধ পয়সায় বাড়ী করে তার ভিতর নামাজ পড়ছে, পূজা করছে, মরলে লাশ এই পাপের বাড়ীতে রাখা হবে —-

বাংলা ইংরেজি আরবী যে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করে একাডেমিক যোগ্যতা অর্জন করলেন সেটা বড় কথা না, তার থেকে বড় কথা আপনি মানুষ হলেন কি না? ধর্ম পরিবর্তন করা যায় মিনিটে কিন্তু মানুষ হতে লাগে সারাটা জীবন, কেউ কেউ সারাজীবনে ও মানুষ হয় না।

ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় পাপ (গোনাহ) হচ্ছে শিরক, মিথ্যা বলা, অকৃতজ্ঞতা, হিংসা, ওয়াদা বরখেলাপ, সুদ ঘুষ ভূমিদস্যুতা দুর্বলকে আঘাত, গরীব মিসকিন কে নির্যাতন, দেনা রেখে মরা, মা-বাবা বা যিনি নিজ পায়ে দাড় করিয়ে রুটি-রুজির ব্যবস্হা করেছেন তাদের খেদমত করে দেনা শোধ করা, তা করছি না, এসব আমাদের চরিত্রে মিক্সার মেসিনে মিশ্রন করে নিয়েছি শুধু শো টা রেখেছি!

 

মা’কে ভাত দেইনা, নিজ স্ত্রী কে অন্যের বিছানায় আপোষে পাঠাই, কেউ কেউ নিজ বাড়ীতেও সুযোগ করে দেন স্ত্রীকে, বোনের পরকীয়া বন্ধ না করে হজ্ব করে এসে হজ্বের ফজিলত বর্ননায় মুখে ফেনা তুলি, সারাজীবনের কর্ম বিশ্লেষণে HELL অথবা PARADISE মিলবে তা জানি না বরং সারাজীবন কঠিন অপরাধ করে গয়া কাশী বৃন্দাবন বা মক্কা মদিনা হিজরত করলেই বেহেশতে সত্তুর হুর সহ একখান ঘর আমার জন্য তৈরি হয়ে গেলো জান্নাতুল ফেরদৌসের মোক্ষম জায়গায়, ধরে নেই বেহেশতে পেয়ে গেছি! কারো অভিশাপ বা দীর্ঘ নিঃশ্বাসে কারো ঘর পুড়ে বা শয্যাশায়ী হয় বিছানায় তা হিসাবে আনে না! আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না! আল্লাহ তার পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “Beware among 73 sects 72 of them will go-to HELL and one of them will go-to PARADE” তার মানে শতকরা ১.৩ জন বেহেশতে যাবে যা আল্লাহ আমাদের চরিত্র বিশ্লেষণের পর রেকর্ড করে রেখেছেন!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন। মিথ্যা বাদী, হিংসুক, শিরক কারী, অকৃতজ্ঞ, সহ ১৩ জন বেহেশতে প্রবেশ করিবে না পবিত্র কুরআনে জ্ঞাত করা হয়েছে!

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত