বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬

ইসলামি সমাজে রবিউল আউয়াল এবং মহানবী (সা.)

আপডেট:

রবিউল আউয়ালের ‘রবি’ অর্থ বসন্তকাল, ‘আউয়াল’ মানে প্রথম; ‘রবিউল আউয়াল’ মানে প্রথম বসন্ত বা বসন্তকালের প্রথম মাস। প্রিয় নবীজির (সা.) বহুমাত্রিক স্মৃতিধন্য এই মাস মানবসভ্যতার ইতিহাসে উজ্জ্বল। মুসলিম মানসে এই মাস শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মহিমায় পরিপূর্ণ।এই মাসে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুনিয়ার বুকে শুভাগমন ঘটে। স্বয়ং আল্লাহ যাঁকে লক্ষ্য করে পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন– সমগ্র জগৎবাসীর জন্য আপনাকে রহমত করেই প্রেরণ করেছি। এ আয়াত প্রমাণ করছে, রাসুলে আকরাম (সা.) গোটা সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ। মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত তথা মালিকানা যে পর্যন্ত বিস্তৃত, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত সে পর্যন্ত ব্যাপৃত। আল্লাহতায়ালা সুরা আম্বিয়ার ১০৭ আয়াতে এরশাদ করেন, হে নবী (সা.)! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি বিশ্বজগতের জন্য শান্তি ও রহমতস্বরূপ। একজন মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এ কারণে নবীজির (সা.) আদর্শের কথা, তাঁর শিক্ষার আলোচনা সারাবছর হয়। তবে রবিউল আউয়াল মাসে মুসলিম জাতির ভিন্ন একটি আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে।পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস স্মরণ করিয়ে দেয় রাসুলুল্লাহর (সা.) প্রতি আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। এ মাসে রাসুলুল্লাহর (সা.) শুভাগমন ঘিরে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর মুজিজা, তাঁর অলৌকিক জীবনাদর্শ সবই মুসলিম জাতির অন্তরে ঢেউয়ের মতো দুলতে থাকে।পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ মাসের বিশেষ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্নত রোজা মাসজুড়ে প্রিয় নবীজির (সা.) নিয়মিত আমল। প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা, আইয়ামে বিজের রোজা অর্থাৎ চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ নফল রোজা পালন করা। রোজা রাখার পাশাপাশি এ মাসজুড়ে নফল নামাজ বেশি বেশি আদায় করা। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশ্ত-দোহা, জাওয়াল, আওয়াবিন, তাহিয়াতুল ও্দু, দুখুলুলমসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি। আর সবসময় প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠানো। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত এ মাসজুড়ে নিজেদের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখা।
মাহে রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে আরও বহু ঐতিহাসিক, গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে, যা রবিউল আউয়ালের মর্যাদা ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আমার হাবিব মুহাম্মদ (সা.), আমি আপনাকে যদি সৃষ্টি না করতাম তাহলে এই পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না।মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরতের উদ্দেশে রওনা করেছিলেন ১ রবিউল আউয়াল। তিনি মদিনায় পৌঁছেন ১২ রবিউল আউয়াল। প্রিয় নবী (সা.) মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন ১৬ রবিউল আউয়াল।এ মাসের আগমন ঘটে নবীপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে। যার হৃদয়ে নবীপ্রেম থাকবে, রবিউল আউয়াল তার অন্তরে আবেগ, উচ্ছ্বাস আর স্পন্দন সৃষ্টি করবে। উৎসাহিত করবে মহানবীর (সা.) আদর্শ ও সুন্নতের প্রতি। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই রাসুল (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ইমানদার হবে না, যে পর্যন্ত আমি তার কাছে নিজ পিতা-মাতা, সন্তান এবং অন্যান্য মানবকুলের চেয়ে বেশি প্রিয় হবো। অতএব, আমাদের উচিত হবে রাসুলে আকরাম (সা.)-এর আগমনের এ মাসকে কেন্দ্র করে তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া এবং তাঁর মহান আদর্শ ও সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তিলাভের জন্য সচেষ্ট হওয়া।

ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত