মার্চের ২৬ দিনেই রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা গত বুধবার পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আর গতকালও রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ডলারের বেশি। সে হিসাবে মার্চ শেষের চারদিন আগেই একক একটি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণের মাইলফলক পেরিয়েছে। এর আগে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। ওই মাসে মোট ২৬৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সবসময়ই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এবারের মতো এত বেশি প্রবৃদ্ধি অতীতে কখনই দেখা যায়নি। এবার রমজান ও ইংরেজি মার্চ মাস প্রায় একই সময়ে শুরু ও শেষ হচ্ছে। এ কারণে মাসের পুরো সময়েই প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর পরও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অর্জন। কারণ এ উল্লম্ফনে দেশ থেকে অর্থ পাচার ও হুন্ডির তৎপরতা কমে যাওয়ারও বড় প্রভাব রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানান, ‘চলতি মার্চের ২৫ ও ২৬ তারিখে মাত্র দুইদিনেই ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর ১ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চের প্রথম ২৬ দিনে ১৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ।’গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা রেকর্ড ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এতদিন এটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার ঘটনা। এর আগে দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। ওই সময় কভিডজনিত দুর্যোগের মধ্যে প্রবাসীরা ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালের জুনে দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৬ মার্চ পর্যন্ত (১ জুলাই থেকে ২৬ মার্চ) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে প্রবাসীরা ৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার বেশি পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলে চলতি বছর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিদেশে হুন্ডির চাহিদা তৈরি হয় দেশ থেকে। বাংলাদেশীদের পাচারকৃত অর্থের বড় অংশ বিদেশে প্রধান শ্রমবাজারগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন আমরা দেখছি, এটি তারই প্রভাব।

