বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের ওপর দুই বছর ধরে বর্ণবাদী আচরণ”পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়রা

আপডেট:

ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের ওপর দুই বছর ধরে বর্ণবাদী আচরণ: পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়রা
​ভেনিস, ইতালি: ইতালির ভেনিস প্রদেশের সালজানো শহরের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী মিয়া মো. আহিদ ও তার পরিবার গত দুই বছর ধরে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বর্ণবাদী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার। বারবার আক্রমণ এবং কুরুচিপূর্ণ হুমকির মুখেও স্থানীয়দের ভালোবাসা ও সংহতি তাদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
​হামলার ধরণ ও ধারাবাহিকতা ​ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে অজ্ঞাত হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের হয়রানি চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে:
​একাধিকবার পরিবারের গাড়ির টায়ার কেটে ফেলা।
​বাসার জানালার কাঁচ ভাঙচুর।চিঠির মাধ্যমে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও বর্ণবাদী হুমকি প্রদান।
​সংহতি প্রকাশে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ
​এই অমানবিক আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ইতালীয় নাগরিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে স্থানীয় কাউন্সিলর, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকরা সশরীরে তাদের বাড়িতে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
​কাউন্সিলর ভান্নি ফাব্রিস এ প্রসঙ্গে বলেন:”সালজানো একটি অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ শহর। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ঘৃণা ও নিচতা পুরো শহরের পরিচয় হতে পারে না। আমরা এই পরিবারের পাশে আছি।”ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয়রা কেবল সমবেদনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:আর্থিক সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় সেবামূলক সংস্থা ‘আউসার’ (Auser)-এর মাধ্যমে একটি বিশেষ তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে বর্ণবাদের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাসখানেক আগেও ওই এলাকার একটি পার্কে বর্ণবাদী স্লোগান সংবলিত লিফলেট পাওয়া গিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের ওপর এই হামলা কেবল একটি পরিবারের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি স্থানীয় সম্প্রীতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন সালজানোর নাগরিকরা। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত