গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবৈধ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে সাধারণ জনগণ।
বিগত দের যুগেরও বেশি সময়, আওয়ামী দুঃশাসনের শিকার হয়েছে সারা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি`র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি , এনামুল হক মনির সভাপতিত্বে, ও—
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এডঃ মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক বদিউল আলম সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
গত (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। তৎক্ষনাৎ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে পদত্যাগ করার পর স্বৈরাচারী হাসিনা বর্তমানে কোথায় আছেন, উঠছে সেই প্রশ্নও।
মূলত পদত্যাগের পর তিনি ঢাকা থেকে ভারতের আগরতলায় যান এবং সেখান থেকে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে যাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি ঠিক কতদিন ভারতে থাকবেন বা কবে যুক্তরাজ্যে যাবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এরমধ্যে বিগত দিনের বিনা ভোটে নির্বাচিত ইউ পি চেয়ারম্যান অপসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউপির সামনে অবস্থান করে, চেয়ারম্যান কে পরিষদের সকল প্রকার কার্জক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেন জনগণ।
পরে স্বৈরাচারী আওয়ামী নেতা শিরাজুল হক মাতাব্বর চেয়ারম্যান গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চা স্টলে বসে নানাবিধ কুচক্র ছক আকে। যখন বুঝতে পারে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে উঠতে দেওয়া হবে না। তখন এই আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের চেয়ারম্যান কে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদে বসায় গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির কতিপয় নেত্রীবৃন্দ।
মানববন্ধনের সভাপতি এনামুল হক মনি বলেন…
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত সকলেই আমরা একটি পরিবার। আমার পরিবারের সকল প্রকার সুবিধা অসুবিধা আমাদের দেখতে হবে। সকলের অভিযোগ বিনা ভোটের অত্যাচারী চেয়ারম্যান অপসারণ করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি।চেয়ারম্যান কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচনের আগে আর কোন সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসবে না।
চেয়ারম্যান কে যারা পরিষদে বসানোর পায়তারা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। আপনারা স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চেয়ারম্যানের নির্বাচন করছেন আমরা জানি, জনগণ জানে। তাই সকলেই সাবধান হয়ে যান। আসুন সবাই শহিদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি।
মোঃ আব্দুল হাকিম পিন্টু বলেন…..
যখন দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির কোন নেতা কর্মী এই স্বৈরাচারী সরকারের আমলে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
ঠিক তখনই ছিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
আর এই নির্বাচনে বর্তমান যে গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ সিরাজুল হক মাতাব্বর,
প্রকাশ্যে তার নির্বাচন করেছেন ইউনিয়ন বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দ। তারা আবার বিএনপির নেতাদের সাথে যোগ দিচ্ছেন।তাদের তালিকা করে বরখাস্ত করা হবে। আর যদি কাওকে দলে নেয়া হয়, তবে সাধারণ জনগণের থেকে নিব। কিন্তু সুবিধা বাদি দের আর আশ্রয় পশ্রয় দেওয়া হবে না।
যুবদল নেতা আমিনুর ইসলাম বলেন….
আমরা সকলেই অবশ্যই অবগত আছি। ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল হক মাতাব্বরের নির্বাচন কিভাবে হয়ে ছিল। ভোট হয়েছিল রাতে। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চেয়ারম্যানের নির্বাচন হয়ে এখন কি ভাবে সে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করতে আসছি, এই চেয়ারম্যান নিজে বাদি হয়ে শ্রীপুরের মানুষের নামে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে হাজত খাটিয়েছেন। এমন স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান আমরা চাই না। একজন চেয়ারম্যান কি ভাবে ইউনিয়নের মানুষকে হয়রানি করে। আমরা তার অপসারণের দাবি করছি।
জেলা যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন…
আমাদের দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী, দেশ আজকে যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে এই দেশকে মুক্ত করার জন্য। দেশের গণতন্ত্র ফিরানোর জন্য, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য, বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য যে নেত্রী স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এককভাবে আন্দোলন করেছেন। উনাকে দেখেছি না আমরা, উনি কি কারো সাথে হাত মিলিয়ে ছিল? অন্য নেত্রী এরশাদের সাথে সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচন করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া কোন আপোষ করেন নাই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনবাজি রেখে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এরপর স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এই নেত্রী গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
‘নির্বাচনের আগে আমাদের আন্দোলন, আমাদের জনগণ ও নেতা কর্মী যত না শক্তিশালী ছিল। আজকে আমরা তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এইবারের ধাক্কা সামলাতে পারবেন না। চোরের ১০ দিন গৃহস্থের একদিন, সেই দিন চলে এসেছে। আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে, হাতে হাত মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শেখ হাসিনার রেজিমকে পরাজিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘১/১১ পরে সামরিক শাসন চালিত যে একটি সরকার ছিল। তারা নির্বাচন করেছে। তারা বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিল, তাদের অন্যায় এবং রাষ্ট্র দখলের বিষয়টা মেনে নেয়ার জন্য। যেটি শেখ হাসিনা মেনে নিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া মানেন নাই। জেল খেটেছে, এখনো জেল খাটছে। আরেক স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েই জেল খাটছেন।’
উপস্থিত ছিলেন…
শ্রীপুর উপজেলা মৎসজীবী দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাকিম পিন্টু,গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি নুরে আলম মাতাব্বর, গাজীপুর জেলা যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম সরকার, আলতাফ মাহমুদ বাচ্চু তালুকদার সহ-সভাপতি গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি। গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশিদ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক আবুল মন্ডল গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি ডিএম শহিদুল ইসলাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রীপুর প্রেস ক্লাব। মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সাবেক সাধারন সম্পাদক ৭ ওয়ার্ড বিএনপি। গাজীপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি সিনিঃ যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মিথেন, শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার, গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাসেল আহামেদ নীল, যুবনেতা মাজেদুর, জাফর, গাজীপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক নেতা আতিক হোসেন সাগর, গাজীপুর জেলা যুবনেতা রানা রায়হান, যুবনেতা রাকিব শেখ, গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর আহমেদ মিশু, সাধারন সম্পাদক রবিন মন্ডল, গাজীপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক নেতা সোহাগ আহামেদ, শ্রমিক নেতা মেহেদি, আকরাম, শহিদ মোল্লা শফিক সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দু।



