মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

তরুণ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

আপডেট:

ভূমিধস বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের পথে বিএনপি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরদিনই সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সংসদের যাত্রা। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। একই স্থানে একই দিন বিকাল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। ফলে পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা। দলের বাইরে জোট সমর্থিতদের মধ্যে কে কে মন্ত্রিসভায় ডাক পাচ্ছেন তা নিয়েও জনমনে রয়েছে কৌতূহল। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার আকার কিংবা ধরন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলা হয়নি। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে এবার ঢাউস নয়; প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট পরিসরে গঠিত হতে যাচ্ছে মন্ত্রিসভা। তবে মন্ত্রিসভার আকার কত সদস্যের হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একটি সূত্র বলছে, ২৫ থেকে ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা হতে পারে। সেখানে অর্ধেক সিনিয়র নেতা এবং বাকিরা উচ্চশিক্ষিত তরুণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নিজেই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ করছেন। ফলে কে মন্ত্রিসভায় থাকছেন আর কে থাকছেন নাÑ সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নিজেই। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাদের যোগ্য মনে করবেন, তারাই মন্ত্রিসভায় থাকবেন বলে জানান স্থায়ী কমিটির ওই নেতা। তবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে। দেখা যাক কী হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বিস্ময়কর রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন তারেক রহমান।বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় নাও দেখা যেতে পারে। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের সম্ভাবনা থাকবে। মূলত অভিজ্ঞ ও প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এমন ৫-৭ জন নতুন মুখ ঠাঁই পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়। অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন, অপেক্ষাকৃত কম বিতর্ক ছিল, এমন কেউ কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।সূত্রগুলো বলছে, জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহ উদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। মন্ত্রিসভায় আরও যাদের দেখা যেতে পারে, তারা হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আফরোজা খান রিতা, জয়নুল আবদীন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুর রহমান। এহসানুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, রকিবুল ইসলাম বকুল, জিএম সিরাজ, আলী আসগর লবি, মো. আব্দুল বারী, ব্যারিস্টার ফারজানা রহমান পুতুলকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।অপেক্ষাকৃত তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল,আজিজুল বারী হেলাল. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, সাঈদ আল নোমান, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীফুল আলম, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, এবিএম মোশাররফ হোসেন ও ববি হাজ্জাজ প্রমুখ।টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন ইসমাঈল জবিউল্লাহ, রুহুল কবির রিজভী, মো. হুমায়ুন কবির, মাহদী আমিন ও ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করা হয়, সে ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যথায় সালাহউদ্দিন আহমদকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। এমনকি রাষ্ট্রপতি হওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে।এ ছাড়া স্পিকার হিসেবে ড. ওসমান ফারুক ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠনের সাবেক নেতা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। সে বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে তাকে। কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে রুহুল কবির রিজভী ও ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত