রবিবার, মার্চ ২২, ২০২৬

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে বিবিয়ানা গ্যাস শেষ হওয়ার পথে

আপডেট:

***আনোয়ার মোরশেদ বুলেট ***

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে। বিবিয়ানা গ্যাস শেষ হওয়ার পথে। গত ১৭ বছর অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধান উন্নয়নের মুল চাবিকাঠি জ্বালানি সেটি না করতে পারলে দেশে উন্নয়ন অগ্রগতি থমকে যাবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নিয়ে কমিটি করে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি গুলোর সাথে আলোচনা মাধ্যমে গ্যাস উত্তলনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তা নান করতে পারলে ছাত্র জনতার মাধ্যমে অর্জতিত এই সরকার ও জনগন বিপদে পড়ে বলে দৈনিক সকালের কন্ঠে পাঠক মহল ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করে।জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গ্যাস যুক্ত হচ্ছে ২ হাজার ৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে আসছে ১ হাজার ২ মিলিয়ন ঘনফুট বা ৩৯ শতাংশ। যদিও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের বৃহত্তম এ উৎসের মজুদ এরই মধ্যে নিঃশেষ হয়ে পড়ার কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবিয়ানা থেকে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে তা দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক বিপর্যয়ে ফেলতে পারে। হয়ে উঠতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ।গ্যাস মজুদের টুপি (প্রমাণিত ও সম্ভাব্য) হিসাব অনুযায়ী, বিবিয়ানায় গ্যাসের মজুদ থাকার কথা প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। যদিও এরই মধ্যে এখান থেকে উত্তোলন ছয় টিসিএফ ছাড়িয়েছে। শেভরনের পক্ষ থেকে গত বছর মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৪৮১ বিলিয়ন কিউবিক ফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুদের কথা জানানো হয়। পেট্রোবাংলা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ মজুদও বিবিয়ানার। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এরই মধ্যে সেই গ্যাসেরও সিংহভাগ উত্তোলন হয়েছে। সে অনুযায়ী দেশের গ্যাস উত্তোলনে শীর্ষে থাকা ক্ষেত্রটির মজুদ এখন নিঃশেষের এ শিল্পগুলো। বৃহৎ শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিরামিক ও বস্ত্র শিল্পের কারখানাগুলোকে। কখনো কখনো সিরামিক খাতের কারখানাগুলোয় উৎপাদন ক্ষতি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রচুর কাঁচামালও নষ্ট হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে বস্ত্র শিল্পেও উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এ নিয়ে শিল্পোদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পেট্রোবাংলার কাছে নানাভাবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিও জানানো হয়েছে। গ্যাসের গড় পিএসআই পর্যাপ্ত না হওয়ায় কারখানাগুলোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মেশিনারি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।বিদ্যুৎ খাতেও সংকট বড় আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্ধেক বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। সংকট রয়েছে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও। ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ছে।একইভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার সার কারখানার উৎপাদন। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে দুটি কারখানার উৎপাদন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না হলে যথাসময়ে কৃষককে সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে সার উৎপাদন কম হবে সাড়ে তিন লাখ টন। ফলে ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যয় করতে হবে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
তত্র্যসুত্র :: বনিকবার্তা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত