কর্মজীবন, পরিবার, সামাজিক মর্যাদা, সবকিছুই একজন পুরুষের সফলতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।ুপুরুষ নিজ সত্তা হারিয়ে প্রতিদিন একলা হয়ে পড়ছে। সব কিছুই পুরুষের উপর চাপ উদ্যোগজনক হারে বেড়ে চলছে। পরিবারে পাশে থাকা, অর্থনৈতিক দায়িত্ব সামলানো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সব পুরুষদের জন্য নির্ধারিত। আর এ অন্তহীন দৌড়ে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন্, তবে সে ক্লান্তির কথাও তারা বলতে পারেন না প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ‘সেলিব্রেটিং মেন অ্যান্ড বয়েজ’ বা ‘পুরুষ ও ছেলেদের উদযাপন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। অর্থাৎ পুরুষ ও ছেলেদের ভালো দিক, ইতিবাচক ভূমিকা ও তাদের কাজগুলোকে উদযাপন করা। কিছু দেশে আরো একটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, আর তা হলো, ‘সাপোর্টিং মেন অ্যান্ড বয়েজ’। পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ, দুঃখ বা আবেগের বিষয়গুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখাই এর উদ্দেশ্য।কর্মজীবন, পরিবার, সামাজিক মর্যাদা, সবকিছুই একজন পুরুষের সফলতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের পাশে থাকা, অর্থনৈতিক দায়িত্ব সামলানো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সব পুরুষদের জন্য নির্ধারিত। আর এ অন্তহীন দৌড়ে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তবে সে ক্লান্তির কথাও তারা বলতে পারেন না।আমাদের সমাজে ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, কাঁদা যাবে না, দুর্বলতা দেখানো লজ্জার বা সব সমস্যার সমাধান পুরুষকেই করতে হবে। এ ধারণাগুলো এতটাই গভীরভাবে গেঁথে থাকে যে একজন পুরুষ মানসিক চাপ, হতাশা বা ভীতির মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে গেলেও থমকে যায়। অনেকেই মনে করেন—নিজের কষ্ট অন্যকে বললে তিনি কম ম্যানলি হয়ে পড়বেন। অথচ এই নীরবতা অনেক সময় গভীর বিষণ্নতা, একাকিত্ব এমনকি আত্মঘাতী চিন্তারও জন্ম দেয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, পুরুষদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ আর আত্মহত্যার হার দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালের একটি জরিপ বলছে বিশ্বজুড়ে প্রতি ১ লাখ পুরুষে আত্মহত্যার হার প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে চিকিৎসা নিতে নারীদের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম আগ্রহী পুরুষরা। ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়ষ্ক পুরুষেরাও। গবেষণা বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও সঙ্গী হারিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশের মধ্যে বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষ বিষণ্ণতায় ভোগেন।তবে মানসিক সমস্যায় ভুগলেও খুব কম পুরুষই কাউন্সেলিং বা থেরাপির কথা ভাবেন। তারা নিজেরাই নিজের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকেন। পরিবার বা কাছের মানুষকে বুঝতে না দিয়ে হাসিখুশি, দায়িত্বশীল পুরুষের অভিনয় জারি রাখেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগ লুকিয়ে রাখা নয় তা প্রকাশের সুযোগই পারে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে। বিশ্ব পুরুষ দিবস আসলে ঠিক এ জায়গাটিতেই আলো ফেলতে চায়। অব্যাহত সামাজিক ধারণা ভেঙে এখন সময় এসেছে ছেলেদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবারও।

