বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

বাকস্বাধীনতা গনতন্ত্র সাংবাদ মাধ্যম আনিস আলমগীরের ক্ষোভ

আপডেট:

যা দেখে ক্ষোভ এবং আমি গভীর ও বেদনা অনুবভ করছি । বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বিবর্তন, বিশেষ করে গত দেড় দশকের যে চিত্র আপনি তুলে ধরেছেন, তা এই পেশার একটি রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। যখন তথ্য পরিবেশনকারী ‘ওয়াচডগ’ বা অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার কথা ছিল, তখন একদল সাংবাদিকের ‘ক্ষমতার পাহারাদার’ হয়ে ওঠা গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থাকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
​আপনার বক্তব্যের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করা যেতে পারে: দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও নৈতিক অবক্ষয়, গত আমলে সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদারিত্ব হারিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ আর তোষামোদি করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। মিডিয়া হাউজগুলোর লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ায় এমন এক শ্রেণির সাংবাদিক তৈরি হয়েছে যারা সত্যের চেয়ে ক্ষমতার গুণগান গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। আনিস আলমগীরের বিষয়টি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট, আনিস আলমগীরের মতো সিনিয়র একজন সাংবাদিক যখন আদালতে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের আকুতি জানান এবং সহকর্মীদের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন তা পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অশনিসংকেত।বিচার পাওয়ার অধিকার: অভিযুক্ত যে কেউ হতে পারেন, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া বা ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিক অধিকার।
​সহকর্মীদের ভূমিকা: অতীতে যখন সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছিলেন, তখন একদল যেমন চুপ ছিল, বর্তমানেও সেই একই ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’ বা বেছে বেছে কথা বলার সংস্কৃতি চলছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মিডিয়া সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রের অনুমোদন মিডিয়া সেক্টরকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিকভাবে পরাধীন করে ফেলেছে। এখন সময় এসেছে:যোগ্যতাভিত্তিক মিডিয়া মালিকানা: শুধু শিল্পগ্রুপ বা রাজনৈতিক আশীর্বাদ নয়, প্রকৃত সংবাদকর্মীদের নেতৃত্বে মিডিয়া গড়ে তোলা।
​সাংবাদিকদের ঐক্য: দলীয় বিভাজন ভুলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়া। আনিস আলমগীরের মুক্তির দাবির মতো বিষয়ে পেশাদারিত্বের খাতিরে সবার সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।”সাংবাদিকতা যখন সত্যের সেবা ছেড়ে ক্ষমতার সেবায় লিপ্ত হয়, তখন সেটি আর পেশা থাকে না, দালালি হয়ে যায়।” আপনার এই উপলব্ধির সাথে বহু সাধারণ মানুষ আজ একমত।
​একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার অগ্রজ বিশিষ্ট সাংবাদিক মাসুদ কামাল, সহকর্মীদের (যেমন ফিরোজ ভাই) অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আনিস আলমগীরের জামিনের বিষয়ে জোরালো দাবি জানিয়েছেন, তা সাংবাদিকতার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত