লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ০৪.০৬.২০২৪
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে রেল ট্রানজিট দিয়ে আসছেন! বিরোধী দল বলছেন দেশ বিক্রি করে দিয়ে আসছে। আসলে সমস্যা কখন কি হতে পারে তা উল্লেখ করেন নাই! আমাদের দেশ পরবর্তী শাসনের নেতা হলেন ফখরুল, তারেক সাহেবরা, তাদের ভবিষ্যতে কি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ ট্রানজিটে, তা বুঝায় বলার মত ব্রেইন নাই!গতানুগতিক পদ্মাসেতু ভেঙে পড়বে, খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করেছিলো, কর্ণফুলী টানেলে জল লিক করবে, মেট্রোরেল ভেঙে পড়বে, সস্তা ক্ষমতায় যেতে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়া, পিটার হাঁসকে ভগবান বলা, কয়লা বিদ্যুৎ হলে সুন্দর বন নষ্ট হবে, পরিবেশ দূষন হবে, পরিবেশ আইন বই ই খুলে দেখেন নাই, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বার্ন ছাই ফেলবে কই, রাশিয়া সরকার চুক্তি আছে বার্নড এ্যাশ রাশিয়া নিয়ে যাবে, চুক্তি না পড়ে কথা বলা, অথচ পরমাণু বিদ্যুৎ তৈরি হলে দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাচামাল আমদানির জাতিসংঘ অনুমতি পাবে এবং ইউরেনিয়াম আমদানি করতে পারলে পরমাণু শক্তিধর হবে দেশ এটা বোঝার মস্তিষ্ক ফখরুল তারেক ও তাদের দলের সো কল্ড শিক্ষিতরা কবে বুঝবেন? এমনি কত সব ফালতু অবৈজ্ঞানিক কথা ছাড়া ভালো জীবনভিত্তিক কথা তাদের কাছে শোনা যায় না ! তবু ও সমর্থক আছে কারন “পূর্ব পুরুষ মুসলিম লীগ থাকলে” তাদের আর যাওয়ার জায়গা কই। আমরা যতই নিরপেক্ষ সত্যি লিখি তবুও নাস্তিক দালাল ভেবে রাখে পড়ার আগের থেকে। তাই এমনি কোন প্রগতিশীল লেখকের লেখা তারা পড়ে না মোকসুদুল মমিন পড়া ধর্ম জ্ঞান ও সক্রেটিস এ্যারিস্টটল হবস গার্নার প্লুটো লাস্কি জাতীয় অধ্যাপক আঃ রাজ্জাক, ভিসি আবুল ফজলদের দর্শন রাস্ট্র বিজ্ঞান ছাড়া ভিন্ন পথে রাজনীতি জ্ঞান নিয়ে এমন সব উল্টাপাল্টা কথা বলা গতানুগতিক ধারা যা গত ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে তাদের রেখেছে, ভুল কথা, ভুল পদক্ষেপ, ভুল রাজনৈতিক দর্শন, ভুল ষড়যন্ত্র হত্যা ক্যূর পরিকল্পনার ফল ভোগ করছেন তারা! নিজেরাই মৃত্যু মুখে ঠেলে দিয়েছেন ২/৩ বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কে, হয়তো প্রতি ৫ বছর পর সরকার পরিবর্তন ধারা অব্যাহত থাকতো!!!
প্রিয় পাঠক, ভারত চীন যুদ্ধ হলে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ভারত অস্ত্র গোলাবারুদ বহন করতে পারে, এসব চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকার কোড করতে পারেন, “যুদ্ধ সরঞ্জাম বহন করা নিষিদ্ধ।” গোলাবারুদ বহন করলে বাংলাদেশ হবে ভারত চীনের যুদ্ধ ময়দান! এসব পরামর্শ ফখরুল সাহেবরা দিতে পারেন। এছাড়া অন্য কোন সমস্যা নাই কারন পূর্ব পাকিস্তানের সাথে ভারতের রেল নৌ ট্রানজিট ছিলো যা ১৯৬৫ সালে পাকভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয়েছে। লাহোর করাচি পর্যন্ত ভারতের ট্রেন যায়। ট্রান্স এশিয়া চুক্তি হয়েছে ২০০৭ সালে যা ভারত বাংলাদেশ নেপাল চীন মালয়শিয়ায় ট্রেন যাতায়াত করবে তখন ফখরুল সাহেব কি বলবেন? ঐ দলের বেশ কিছু শিক্ষিত লোককে চিনি তারা “দেশ বিক্রি হয়ে গেছে বর্গীর কাছে” এমন কথা ফেজবুকে লেখে অথচ ফান্স বৃটেন দু’শ বছর যুদ্ধ করেও ট্রানজিট চালু আছে। “প্যারিস থেকে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে লন্ডন ট্রেন চলে আসতেছে।” দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইউরোপীয় ২৭ টা দেশ ট্রানজিটে সহজ পন্য বহন ও ব্যবসা বানিজ্যের জন্য এত ধনী হয়েছে। বৃটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে এসেও ট্রানজিট বন্ধ করে নাই। বর্ডারলেস কান্ট্রি ইউরোপ। জার্মান কি নিজ ইউরোপীয় দেশের সাথে যুদ্ধ করে নাই?
এইতো সেদিন কলকাতা থেকে ১১ দেশ ঘুরে ৭৯৯৭ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ল্ডন যেতো ট্রেন, আলবার্ট ডবল ডেকার বাস যেতো কলকাতা থেকে লন্ডন ও অস্ট্রেলিয়া ১৬ টা দেশ ছুয়ে ১৯৭২ সালে। এ ট্রানজিটে কি কোনদেশ বিক্রি হয়েছে?
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, “নৌ বিমান ট্রানজিট তো আগের থেকে আছে শুধু স্হল চালু হলো, অবশ্য বাংলাদেশ আর্থিক ভাবে লাভবান হবে বলে এদেশের অর্থনীবিদরা মনে করে!” ট্রান্স এশিয়া” চালু হলে একই অবস্থা হতো, এতটুকু অংশ বাংলাদেশের বাকী পুরোটা ভারতের উপর দিয়ে ট্রেন যাতায়াত করবে! সংযোগ হবে চীন বাংলা ভারত নেপাল মালয়শিয়া। এদিকে ইরান তুরস্ক পাকিস্তান ট্রেন স্হাপন কাজ চলছে।
বিরোধী দলের জোর আন্দোলন দরকার “সীমান্ত হত্যা তথা তিস্তা” নিয়ে, ফখরুল তারেক সাহেবরা উত্তর বঙ্গের মানুষ, অথচ তিস্তা নিয়ে আন্দোলন করেন না, কারন উনারা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে যেতে চান না! চীনের প্রস্তাবে জোর সমর্থন আন্দোলন করলে সরকার ভারতকে দেখাতে পারেন, জনগন চীনকে চায়! ফখরুল সাহব ও তার লোকেরা দেশকে ভালোবাসেন নাকি দেশের চেয়ার দখল সেটা ভাবতে হয় এদেশের বোদ্ধা জনগোষ্ঠীর!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন, নিজ ধর্ম করে মানবিক মানুষ হন, ভন্ডামি ধর্মেও নয় দেশপ্রেম ও নয়!



