লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ১৬.০৭.২০২৪
কোটা কি?
১. বিশ্বে সব দেশে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী কে টেনে তুলতে কোটা ব্যবস্হা করে! নারীকে তুলতে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কে তুলতে ইত্যাদি। বাংলাদেশে এমনটা করা হয়েছিলো ১৯৭২ সাল স্বয়ং “মুজিবের” নিজ হাতে! ক্ষমতার রদবদলে কিছু পরিবর্তন কেউ কেউ এনেছেন যদিও মুল ধারা বন্ধ করার সাহস কেউ পান নাই।
২. স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মদান, পঙ্গু, শহীদ, বীরাঙ্গনা পরিবার সুযোগ সুবিধা পান। ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কোরিয়া, লাওস, বসনিয়া, কাসাভো ইত্যাদি হাজার দেশে এটা অনেক বছর চালু ছিলো কোথাও এখন ও আছে।
৩. খোদ প্রতিবেশী ভারতে সব কিছু চালু ছিলো, যা কিছু বিলুপ্তি ঘটালেও আজ অবধি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী পোষ্যরা দাদা বা পর দাদার স্বাধীনতা সনদ স্বর্ন মেডাল আজও দেখালে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বিনা প্রোটকলে ডেকে পাঠান, সাক্ষাৎ দেন!
প্রিয় পাঠক, কোন এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বললেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা “স্যার সলিমুল্লাহ” দিয়ে গেছেন আসাম বাংলা মিলে এক দেশ, ১৯৭১ এ যুদ্ধ সংগ্রাম কিছুটা পানসে মনে হলো তাদের কাছে। আবার ‘৭১ এর একজন বীরাঙ্গনা কে এনেছেন, ক্রেস্ট ও দিলেন তাকে। আসলে আমরা একটা ঘোর কন্ট্রাডাকটরি পরিবেশে আছি।
এ অবস্হা থেকে মুক্তি দিতে পারেন সরকার ও বিরোধী দল যারা রাজনৈতিক ব্যক্তি। একটা প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরি নিয়োগে ৭ লাখ টাকা দর উঠেছে (আমার অভিজ্ঞতা), এই বিষয় বন্ধ করতে ছাত্র তথা বিরোধী দল ঘুষ মুক্ত চাকুরী চান না, সরকার বিরোধী সংগ্রাম ও করেন না!
সংগ্রাম করে ছাত্র রা, স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ পঙ্গু ইজ্জত দাতার সন্তানের সুযোগ সুবিধার বিরুদ্ধে! যারা উসকে দেন তারা ও বেছে নেন বুমেরাং বিষয়! আজ একজন ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মারা গেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রংপুর! এমন টা কি হওয়া উচিত ছিলো? এমনটা কি আমাদের কাম্য ? সেই ১৯৭১ সালের ভাগাভাগি আজ ও পক্ষ বিপক্ষ তেমনটা স্পষ্ট করছে রাজনৈতিক দলগুলো।
প্রিয় পাঠক, ছাত্রদের ডেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা তার উপদেষ্টারা কি আলোচনা করে সারা বিশ্ব ইতিহাস বুঝাতে পারেন না, দেখাতে পারেন না, এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা এখন ও জীবিত, একজন বীরাঙ্গনার নাতি চাকুরী করে তাকে না খাওয়ালে জাতির দায়বদ্ধতা শেষ হয় না? শত্তুর উর্ধো একজন পঙ্গু মুক্তি যোদ্ধা আজও পাকিস্তানের আর্সেনিক গ্রেনেডের স্প্রিন্টার শরীরে নিয়ে বিছানায় কাতরায়, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা না খেয়ে যে পোতাটাকে বিএ পাশ করানো হয়েছে তাকে কে চাকুরী দেবে যদি দেশ তথা সরকার তাকে একটু সম্মান না দেখায়?
আলোচনার টেবিল বাদ দিয়ে কোমলমতি ছাত্রদের প্রতিপক্ষ করা যেমন বোকামি যারা তাদের উসকায় সেইটাও গতানুগতিক চরিত্র বিধায় সরকারের এগিয়ে আসা কর্তব্য বলে আমি মনে করি। এসব কোমলমতি ছাত্ররা জানে না বাংলাদেশ স্বাধীনতায় কত কষ্ট ক্লেশ করেছেন এদেশের মানুষ, কত নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করেছে, ইজ্জত লুটেছে পাকিস্তান সেনারা, ঘরবাড়ীতে আগুন দিয়েছে! কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিলো একবেলা খেয়ে। মুক্তি যোদ্ধারা বাংকারে তিন দিন না খেয়ে থেকে এক ফালি পাকা কুমড়া খেয়ে জীবন বাঁচিয়েছে তবু যুদ্ধ চালিয়ে গেছে, বাঙ্কার ছাড়ে নাই! আন্দোলন কারীরা কি তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে? তারা তো বাংলাদেশের পতাকা মাথায় বেঁধে ই আন্দোলন করছে। তা হলে প্রতিপক্ষ কেন, বোঝার ভুল ও বুঝানোর ব্যর্থতা। অধিক চাকুরির ফিল্ড তৈরি হচ্ছে, ভর্তি হতে ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ছে রোজ!
আন্দোলন কারী ছাত্র একজন।



