শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজগুলোতে অনিয়ম হয়ছে কিনা দুদুক কি দেখবে

আপডেট:

——————
১) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কারকাজে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দুই ভাগে কাজটির মেরামত ও সংস্কারের (ইলেকট্রো মেকানিক্যাল) খাতে বরাদ্দ ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার ৫৮৯ টাকা – যার মাধ্যমে মিলনায়তনে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন, অত্যাধুনিক সাউন্ডসিস্টেম ও লাইটিংয়ের কাজ করা হয়। তাছাড়া অন্য ভাগে, মেরামত ও সংস্কারের অংশের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪১১ টাকা। যার মধ্যে রয়েছে কাঁচের জানালা, টাইলস, চেয়ার, মঞ্চ ও সোফাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা (তথ্য সূত্র : ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা)। মিলনায়তনের সংস্কারকাজে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্যব্যক্তিত্ব মলয় ভৌমিক ‘প্রথম আলো’ কে বলেন, সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ চেয়ার মেরামত করলেই মিলনায়তনটি চলত। তা না করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে সংস্কারের নামে এটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক দল ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিলনায়তনের ব্যাপারে ছাড়পত্র দেয়। গত বছর মে মাসে গঠিত একটি কারিগরি কমিটির ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে মিলনায়তন বুঝে নিয়েছে রাবি প্রশাসন। প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সংস্কারের পর যাঁরা মিলনায়তনে অনুষ্ঠান দেখেছেন, তাঁরা বলছেন, চেয়ারের রং হাতের সঙ্গে এখনই উঠে যাচ্ছে। খুবই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এই সংস্কারকাজ নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চারতলা শেখ রাসেল স্কুল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি টাকা। সেখানে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কারে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় অবিশ্বাস্য। এই টাকায় নতুন মিলনায়তন বানানো যেতে পারত। মিলনায়তনের সংস্কার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর রাবি প্রশাসনের কাছে তথ্য চেয়ে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার প্রতিবেদক ‘তথ্য অধিকার আইনে’ দুই দফা আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ২) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান আবাসিক হল ও ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ডে’ আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। নির্মাণাধীন শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান হল ধসের কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটি নির্মাণ কাজে গাফিলতি খুঁজে পেয়েছেন। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় নয়জন শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে জানা যায়, সাটারিংয়ে ব্যবহৃত খুঁটির রড মান-সম্মত ছিল না। এছাড়া কাঁচা বিমের ওপর ছাদ ঢালায় করায় ওই দূর্ঘটনা ঘটেছে। ভবনের অন্যান্য অংশের কাজের মান নিয়েও ছাত্র-শিক্ষকদের সন্দেহ আছে। কিন্তু রাবি প্রশাসন ওই প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রকৌশলীকে বড় ধরনের কোন শাস্তি না দিয়ে, শুধুমাত্র প্রকল্প থেকে প্রত্যাহার করেছে। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ভবনধস ও শ্রমিক হতাহতের এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর একই ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিক ইউনুস আলী এবং ২০২২ সালের ৩১ মে আরেক নির্মাণাধীন ২০তলা একাডেমিক ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিক সাগর এবং ২ ফেব্রুয়ারি ভবনগুলোর নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ট্রাকের চাপায় শিক্ষার্থী হিমেলের মৃত্যু ভবিষ্যতে বড় ক্ষয়ক্ষতির আভাস দিয়েছিলো। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায়িত্বে অবহেলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ভবনগুলোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ এর বেপরোয়া দুর্নীতি, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে একটি হত্যা কাঠামো সৃষ্টি হয়েছে। যাতে যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারে।’

ড. মু. আলী আসগর
প্রফেসর
ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত