শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

খাল দখলে জনদূর্ভোগ চরমে

আপডেট:

চাটমোহরে বড়াল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সরকারি ক্যানেল (খাল) দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ দখল চললেও দেখার কেউ নেই। ধীরে ধীরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পাঁচটি বিলের অন্তত পাঁচ হাজার বিঘা জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, চাটমোহর পৌর সদরের নতুন বাজার এলাকায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে, যা বড়াল নদীর সঙ্গে স্থানীয় পাঁচটি বিলকে সংযুক্ত করেছে। বর্ষা মৌসুমে এই ক্যানেল দিয়ে পানি চলাচল করায় হাজারো কৃষক-জেলেদের উপকারে আসত। কিন্তু বর্তমান চিত্র দেখে খালটির অস্তিত্ব বোঝার উপায় নেই। খালটি অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছে একটি চক্র। কেউ আবার নির্মাণ করেছে পাকা স্থাপনা। কারও কোনো অনুমতি না নিয়ে ইচ্ছামতো দখল করেছে তারা। দিনে দিনে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক- জেলেরা। রোববার সরেজমিন দেখা যায়, খালের ওপর দোকান করেছেন সিদ্দিকুর রহমান, মানিক শিকদার, নুর হোসেনসহ অনেকে। তারা জানান, অবৈধ জেনেও তারা ক্যানেলের ওপর দোকান নির্মাণ করেছেন। গরিব মানুষ, কিছু একটা করে খাচ্ছেন। সবাই করছেন দেখে, তারাও করছেন। সরকারি জায়গার যে যে রকম পারছেন, দোকান করছেন। সরকার যখন চায়, ভেঙে দেবে।খালের কোলঘেঁষে বাড়ি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ইউনুস আলী। বাড়িতে যাওয়া-আসার জন্য ক্যানেলের ওপর পাকা ছোট সেতু নির্মাণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, খালের জায়গায় বাড়ি করেননি তিনি। তাঁর বাড়ি করার অনুমোদন আছে। তবে কাগজপত্র চাইলে দেখাতে পারেননি তিনি।চাটমোহরে বড়াল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সরকারি ক্যানেল (খাল) দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ দখল চললেও দেখার কেউ নেই। ধীরে ধীরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পাঁচটি বিলের অন্তত পাঁচ হাজার বিঘা জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, চাটমোহর পৌর সদরের নতুন বাজার এলাকায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে, যা বড়াল নদীর সঙ্গে স্থানীয় পাঁচটি বিলকে সংযুক্ত করেছে। বর্ষা মৌসুমে এই ক্যানেল দিয়ে পানি চলাচল করায় হাজারো কৃষক-জেলেদের উপকারে আসত। কিন্তু বর্তমান চিত্র দেখে খালটির অস্তিত্ব বোঝার উপায় নেই। খালটি অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছে একটি চক্র। কেউ আবার নির্মাণ করেছে পাকা স্থাপনা। কারও কোনো অনুমতি না নিয়ে ইচ্ছামতো দখল করেছে তারা। দিনে দিনে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক- জেলেরা। রোববার সরেজমিন দেখা যায়, খালের ওপর দোকান করেছেন সিদ্দিকুর রহমান, মানিক শিকদার, নুর হোসেনসহ অনেকে। তারা জানান, অবৈধ জেনেও তারা ক্যানেলের ওপর দোকান নির্মাণ করেছেন। গরিব মানুষ, কিছু একটা করে খাচ্ছেন। সবাই করছেন দেখে, তারাও করছেন। সরকারি জায়গার যে যে রকম পারছেন, দোকান করছেন। সরকার যখন চায়, ভেঙে দেবে।খালের কোলঘেঁষে বাড়ি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ইউনুস আলী। বাড়িতে যাওয়া-আসার জন্য ক্যানেলের ওপর পাকা ছোট সেতু নির্মাণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, খালের জায়গায় বাড়ি করেননি তিনি। তাঁর বাড়ি করার অনুমোদন আছে। তবে কাগজপত্র চাইলে দেখাতে পারেননি তিনি।সাদী হাসান নামের আরেক দখলদার বাড়ি ও মুরগির খামার করেছেন ক্যানেলের মধ্যে। খামারের সব বিষ্ঠা ও ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা বেঁচে থাকতে খালের ওপর দোকান করেছেন। সেটা আর ভাঙা হয়নি। সাড়োরা গ্রামের আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি খালের বেশ খানিকটা জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়ির উঠান বানিয়েছেন। তিনি সবাইকে জানিয়েই এটি করেছেন বলে দাবি করেন।মুকুল সরকার ও আনোয়ার হোসেন নামের দুই কৃষক বলেন, বর্ষা মৌসুমে বড়াল নদীর পানি এই ক্যানেল দিয়ে স্থানীয় রামের বিল, সাড়োরা বিল, জবেরপুর বিলসহ পাঁচটি বিলে পানি প্রবেশ করায় ফসল উৎপাদন বেশি হতো। প্রচুর মাছও পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে দখল ভরাটের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে বিলে মাছ না থাকায় জেলেরা কষ্টে আছেন। কৃষক পাট জাগ দিতে পারছেন না।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান বলেন, এই খালের অবৈধ দখল বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।চাটমোহরের ইউএনও রেদুয়ানুল হালিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। কিন্তু খালটির সীমানা ও আশপাশের ব্যক্তিগত জায়গা কতটুকু তা নির্দিষ্ট নয়। তাই খালের সীমানা চিহ্নিত করার কাজ চলমান আছে। সেটি শেষ হলে প্রশাসন ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত