কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে কোন সমন্বয়ক নেই,সকল নামধারী সমন্বয়কদের বাতিল ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ।
মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দের একটি প্রতিনিধি টিম ময়মনসিংহ জোনের অন্তর্গত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ছাত্র-জনতা মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন পূর্বঘোষণা অনুযায়ী। কিন্তু সে আয়োজনে বাঁধ সাধে কিশোরগঞ্জে স্বঘোষিত সমন্বয়ক ও তাদের তথা কথিত কমিটি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাখ্যান স্বরূপ অনুষ্ঠানের স্থান পুরাতন স্টেডিয়ামে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।যদিও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দের নির্দেশ ছিলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি দিতে কিন্তু কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ বা তাদের প্রতিনিধিগণের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সমন্বয় করার ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।। বরং সেই সিদ্ধান্ত তাঁরা পালন না করে নিজেরা ই সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈঠকের আয়োজন করেন। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ স্বরূপ,জেলা শহরের সকল প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহরের অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য সকাল ১০ টা থেকে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে জমায়েত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের-ই একজন প্রতিনিধি, বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আহনাফ সাঈদ খান(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)-এর সাথে যোগাযোগ করে সার্বিক পরিস্থিতি ও অনুষ্ঠান বাতিল এর আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত করেন। তিনি পরিস্থিতি শিথিল করার জন্য পরামর্শ চান এবং সকল প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বসার জন্য বিকল্প স্থানের কথা জানতে চান তাঁর কাছে।সর্বসম্মতিক্রমে এবং কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং সম্পাদকের অনুমতিক্রমে শহরের সকল মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে বসার জন্য গুরুদয়াল কলেজ অডিটোরিয়াম কে নির্ধারণ করা হয়।এর পূর্বে সকালে ছাত্র-জনতা মৈত্রী সফরের প্রতিনিধি দলের সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতবিনিময় হয় যেখানে তৎক্ষণাৎ অনুষ্ঠান বাতিলের বিকল্প আয়োজনের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত করা হয়।কেননা,সর্বসাধারণের পক্ষে তাদের অনুরোধ ছিল যে আমরা কোন প্রতিনিধিত্ব পেতে এখানে আসি নি কিংবা কোনো কমিটির অন্তর্ভুক্ত হতে আসি নি,আমরা এসেছি যারা শহরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে(সমস্যা উল্লেখপূর্বক)আন্দোলনরত আহতদের খোঁজ নেয় নি,তালিকা করে নি, ছাত্র সমন্বয় করছে না বরং লীগভিত্তিক সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে যারা প্রশাসনিক দপ্তরে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর তাদের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মতবিনিময়ে বসতে পারে না।এই কথায় তারা ছিলো অনড়।নিজেদের প্রভুত্বের প্রভাব যারা এবং যাদের দোসররা যত্রতত্র প্রয়োগ করছে তারা যেন এই শহর ও শহরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তে কেনা স্বাধীনতা পুনরায় হরণ না করতে পারে তাই কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ কর্তৃক প্রেরিত প্রতিনিধিগণের কাছে অনুরোধ করেছিল তাঁরা যেন তাদের মতবিনিময় সভার শুরুতে এই কথাটি সুনিশ্চিত করেন যে কেন্দ্র ঘোষিত কোন সমন্বয়ক ও সমন্বয়ক কমিটি এই শহরে রয়েছে কি-না। কারণ বিভিন্ন সময় তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই বলে বিভ্রান্ত করেছেন যে তারা কেন্দ্র কর্তৃক ঘোষিত।এই দিন দুপুর আড়াইটায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচয়পর্ব শেষে তাঁরা কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত উপজেলা এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামনে ঘোষণা দেন যে দেশে ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আর কোথাও কোন সমন্বয়ক নেই।যারা সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে তাদের ছাত্রসমাজ যেন মেনে না নেয়।সকলের সহযোগিতায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শঙ্কা কে পাশ কাটিয়ে ফলপ্রসূ মত বিনিময় সভা আয়োজিত হয় সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও উপস্থিততে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একজন অনুষ্ঠান পরবর্তী সময়ে বলেন,”আমরা কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ, তাদের প্রতিনিধিগণ পাশাপাশি ধন্যবাদ দিতে চাই যে সকল শিক্ষকমন্ডলী আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন এবং ভৈরব, তাড়াইল সহ যেসকল উপজেলা হতে শিক্ষার্থীরা এসেছেন তাদেরকে। তাছাড়াও আমাদের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকমন্ডলীদের ধন্যবাদ দিতে চাই কেননা তাদের অনুমতি ও সহযোগীতা ছাড়া এই অল্প সময়ে সকল শিক্ষার্থীদের একত্রিত করা সম্ভব হতো না”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দের ময়মনসিংহ জোনের ছাত্র-জনতা মৈত্রী সফরের প্রতিনিধি আরমান,আহনাফ, লুৎফর,সাকিব প্রমুখ।
“কিশোরগঞ্জে কোন সমন্বয়ক নেই,সকল নামধারী সমন্বয়কদের বাতিল ঘোষণা কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ”
আপডেট:

