সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ফেনী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উৎসবমুখর একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। ফেনীতে এবারের শোভাযাত্রায় ইসলামিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ফুটে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন জেল রোডস্থ পিটিআই স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ৭ দিনব্যাপী লোকজ ও সাংস্কৃতিক মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নজর কাড়তে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় আবহমান গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া নানা ঐতিহ্য। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিকৃতি, ঐতিহ্যবাহী মক্তব, কাপড় মোড়ানো রিকশাসহ বিভিন্ন প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ছাত্রী নন্দিতা কর বলেন, এবারের শোভাযাত্রায় ফেনী সাংস্কৃতিক পরিষদের বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও প্রতীকী চিত্র তার সহপাঠীদের অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মক্তবসহ বিভিন্ন ইসলামী সংস্কৃতির চিত্র সবার চোখে পড়েছে। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত আইন ও সামাজিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিকে সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে। সবক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে৷ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এসব আচার অনুষ্ঠানে যেন কোনো দুষ্কৃতকারী অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেদিকে সবাই সতর্ক দৃষ্টি রাখব। পুরোনো সব অসুন্দরকে পেছনে ফেলে আমরা এবার নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ ফেনী গড়তে কাজ করব।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেনী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ইসলাম, ফেনী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির আহমেদ মজুমদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ফেনী পৌরসভার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

