নয়টি (পাঁচটি দেওয়ানি ও চারটি ফৌজদারি) আইনের বিরোধ প্রচলিত আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে জারি করা বিধান আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১২টি জেলায় কার্যকর হচ্ছে। এই জেলাগুলো হচ্ছে- ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রংপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ। এই বিধান কার্যকর করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া এই বিধান প্রয়োগের জন্য বিধি তৈরি করেছে সরকার। সেই বিধিও গতকাল প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার এই কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে সিলেটে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর উদ্বোধন করবেন।
এর আগে গত ১ জুলাই ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৯টি আইনের বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে বিধান জারি করে। এই বিধান কার্যকর করার ফলে, মামলা দায়েরের আগে এসব আইনের বিরোধ লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে বিরোধের কোনো পক্ষ প্রয়োজনে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে এসব আইনের বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা না করে কেউই সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারবে না।যেসব আইনের বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫-তে উল্লেখিত বিষয়; বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-তে উল্লেখিত বিরোধ; সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কটন সম্পর্কিত বিরোধ; স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট-১৯৫০-এর সেকশন ৯৬-তে উল্লেখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ; নন-এগ্রিকালচার টেনান্সি অ্যাক্ট, ১৯৪৯-এর সেকশন ২৪-এ উল্লিখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ: পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ধারা ৮ অনুসারে পিতা-মাতার ভরণপোষণ সম্পর্কিত বিরোধ; নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর সেকশন ১৩৮-এ বর্ণিত চেক ডিজঅনার সম্পর্কিত অভিযোগ (অনধিক ৫ লাখ টাকা মূল্যমান চেকের ক্ষেত্রে); যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ ও ৪ তে বর্ণিত যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১(গ)-তে বর্ণিত যৌতুকের জন্য নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগ।, ২০০০ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ২১ক ধারা অনুসারে সারা দেশে লিগ্যাল এইড অফিসার বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন এবং আইনি সেবাপ্রত্যাশীদের আইনি পরামর্শ প্রদান করেন। ২০০৯ সাল থেকে সরকারি খরচে সারা দেশে অসহায় বিচারপ্রার্থীদের জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে আইনি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিটি জেলায় বর্তমানে একজন করে লিগ্যাল এইড অফিসার রয়েছেন। লিগ্যাল এইড অফিসার একজন বিচারক এবং লিগ্যাল এইড অফিসারের কর্মকে এরই মধ্যে গেজেট দ্বারা বিচারিক কর্ম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনের অধীনে থেকে লিগ্যাল এইড অফিসার ‘মধ্যস্থতা কার্যক্রম’ পরিচালনা করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের সম্মতি ও সমঝোতায় মধ্যস্থতা চুক্তি সম্পাদন করে থাকেন। এ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুফলও মিলছে। অর্থ ও সময় দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে।
১২ টি মামলা আপোষ নিষ্পত্তির বিড়াল কার্যকরী হচ্ছে ৫ দেওয়ানী ৯ ফৌজধারী হচ্ছে
আপডেট:

