বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

কীটনাশক ও কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জালে দেশী প্রজাতি মাছ বিলুপ্তি

আপডেট:

মাছে-ভাতে বাঙালি, পুঁটি মাছের কাঙালি, এসব কথা এখন শুধুই প্রবাদ। এক সময় দেশি প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেত রংপুরের কাউনিয়ার নদী-নালা-খাল-বিলে। বর্তমানে দেশীয় সেসব মাছ দেখা যায় না। এগুলো এখন বিলীনের পথে। ভয়ংকর চায়নাদুয়ারী জাল ও রাসায়নিকের দাপটে গত কয়েক দশকে দেশি প্রজাতির অনেক মাছই হারিয়ে যেতে বসেছে।রংপুরের চরনবীল, সিলেট হাওরের একই অবস্থা। মৎস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত কাউনিয়ায় তিস্তা, মানাস, বুড়াল নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীনের পথে। এখন আর গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ নেই। জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, ফসলের জমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছা ব্যবহার মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত কাউনিয়ায় অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সুস্বাদু দেশীয় মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। জেলার শহর বন্দর গ্রামে গঞ্জে সর্বত্রই দেশীয় মাছের সংকট। অল্প পরিমাণে মিললেও তার অগ্নিমূল্য। মৎস্য ব্যবসায়ী ভোলারাম দাস জানান, দেশি মাছ এখন তেমন পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা অগ্নিমূল্য। মৎস্যজীবী নরজিৎ জানান, জলাশয়গুলোতে এখন দেশি মাছ পাওয়া যায় না। এখনি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশী মাছ আর পাতে উঠবেনা

তথ্য সুত্র : সহযোগী দৈনিক আমাদের সময়

বিজ্ঞাপন

জলাশয়গুলোয় রিং জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে মা মাছসহ ডিম নষ্ট করে ফেলছে। ফলে দেশি মাছ মিলছে না। বিগত দিনে সরকারের উদাসীনতা, মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবসম্মত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব, প্রকাশ্য রিং জালের ব্যবহারের প্রতিকার না হওয়ায় দেশি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। জনসচেতনতা তৈরিতে দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসছে না। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, এ অঞ্চলে শতাধিক প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতায় অনেক প্রজাতির মাছ এখন চোখে পড়ে না। তা ছাড়া নানা সময় নদী-খাল-বিল থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশি মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কালের গর্ভে মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। রংপুর অঞ্চলে শতাধিক প্রজাতির মিঠাপানির মাছের মধ্যে পুঁটি, দারকা, খলিশা, ভেদা, পয়া, গতা, বাইম, কৈ, মাগুর, শিং, টেংরা, শোল, টাকি, চেং, সরপুঁটি, পাবদা, চিংড়িসহ অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এ সকল মাছ স্বাদে ও পুষ্টিগুণে ছিল ভরপুর।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত