রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে গতকাল মস্কোয় ইউক্রেন ‘সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র। এর আগে এ নির্বাচনকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর রয়টার্স।মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় মস্কো অঞ্চলে দুজন এবং রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে আরো দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা রয়েছেন। হামলায় মস্কোর জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগেও ওই স্থাপনাটিতে হামলা হয়েছিল।টেলিগ্রামে সোবিয়ানিন বলেন, ‘শত্রুর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলা স্পষ্টতই নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শত্রু সফল হয়নি।২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটাই প্রথম স্টেট দুমা নির্বাচন। সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভিন্নমতের কোনো সুযোগ নেই। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি সহজেই তাদের আধিপত্য ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের ফলাফলকে পুতিনের নীতি ও ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে ক্রেমলিন। যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পড়েছে এবং শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল সাইবার হামলার খবর এলেও তিন দিনের ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারওম্যান এলা পামফিলোভা জানান,গতকাল রোববার বেলা বাড়ার আগেই স্টেট দুমা ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।যুদ্ধবিরোধী বেশিরভাগ প্রার্থীকে ব্যালটে জায়গা দেয়া হয়নি। উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টির কয়েকজন প্রার্থী বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ভোটের আগে দলটির দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে আদালত দীর্ঘ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এতে তারা নিজেদের স্বাধীনতা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইয়াবলোকো পার্টি জনমত জরিপে এক অঙ্কের সমর্থন পেয়েছে। তবে দলটি আশা করেছিল, যুদ্ধ নিয়ে মানুষের ক্লান্তি তাদের ভোট বাড়াতে পারে প্রতিবাদের ছোট একটি নজির দেখিয়েছেন ইয়াবলোকোর নেতা নিকোলাই রিবাকভ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ব্যালট নষ্ট করেন। ব্যালটে দলের নাম এবং ‘শান্তির জন্য’ স্লোগানটি লেখেন নিকোলাই।ক্রেমলিনের ভাষ্য, ইউক্রেনে তাদের কথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চলাকালে জাতীয় ঐক্য এবং কিছু মাত্রার সেন্সরশিপ প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ সংঘাতকে তারা শত্রুভাবাপন্ন পশ্চিমাদের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য শত্রুরা রাশিয়ার ভেতরে অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে।রুশ নির্বাচনী কর্মকর্তারা গত শনিবার জানান, মস্কোর অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছে। ইউক্রেন সামরিক আইন জারি থাকায় নিজেদের নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। কিয়েভ রাশিয়ার এই ভোটকে ‘ছদ্ম নির্বাচন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।নির্বাচনের ফলাফল অনুমানযোগ্য হলেও বার্লিনভিত্তিক থিংকট্যাংক নেস্ট বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের সময়ে এই নির্বাচন ক্রেমলিনের জন্য কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রেমলিনের সমালোচক মিখাইল খোদোরকভস্কি।এক বিবৃতিতে নেস্ট বলেছে, ‘যুদ্ধের পরিণতি দেশের ভেতরে ক্রমেই বেশি অনুভূত হচ্ছে। জমে থাকা উদ্বেগ ও হতাশা এমন সিস্টেমিক বিরোধী দলগুলোর পক্ষে ভোটে পরিণত হতে পারে, যাদের ক্রেমলিন ব্যালটে থাকার অনুমতি দিয়েছে থিংকট্যাংকটি বলেছে, কমিউনিস্ট পার্টি ও নিউ পিপল পার্টি এমন কিছু ভোট পেতে পারে, যেগুলো ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টিই পেতে চেয়েছিল। বড় ইস্যুগুলোয় দুই দলই ইউনাইটেড রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

