লিবিয়ার সাথে ইতালি ঐতিহাসিক সম্পর্কে সূচনা হলো। ইতালির রাজধানী রোমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য সরকারের (GNU) প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবাহ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ইউরোপ ও আফ্রিকার সেতুবন্ধন হিসেবে পরিচিত এই দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৈঠকের মূল হাইলাইটস: ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক
১. জ্বালানি সাম্রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব
বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল লিবিয়ার জ্বালানি খাতে ইতালির প্রভাব আরও সুসংহত করা। বিশেষ করে লিবিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল উত্তোলনে ইতালীয় জ্বালানি জায়ান্টদের নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে। এই উদ্যোগ ইউরোপের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং রাশিয়ার বিকল্প উৎস সন্ধানে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২. মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ অভিবাসন সমস্যা সমাধানে দুই দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট নির্মূল করতে এবং ভূ-মধ্যসাগরীয় রুটকে অপরাধমুক্ত করতে একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে। মেলোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সব ধরনের সহায়তা দেবে ইতালি।
৩. চার দেশের ‘কোয়াড্রিপার্টাইট মেকানিজম’
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক জোটের কথা উঠে এসেছে বৈঠকে। ইতালি, লিবিয়া, তুরস্ক এবং কাতার—এই চার দেশের সমন্বিত ‘কোয়াড্রিপার্টাইট মেকানিজম’ লিবিয়ায় শান্তি রক্ষা এবং অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে একটি কৌশলগত বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে।
৪. অত্যাধুনিক সীমান্ত ও উপকূল প্রতিরক্ষা
লিবিয়ার সীমান্ত এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতালি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
অত্যাধুনিক ড্রোন ও রাডার সিস্টেম সরবরাহ।
উপকূল রক্ষীবাহিনীর জন্য উচ্চগতিসম্পন্ন নৌ-যান।
সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ।
৫. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতিসংঘের রোডম্যাপ
লিবিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, লিবিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কেবল আফ্রিকার জন্য নয়, বরং পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।”লিবিয়ার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই ইউরোপের সীমানা সুরক্ষিত করা। আমরা দবেইবাহ সরকারের সাথে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ — জর্জিয়া মেলোনি, প্রধানমন্ত্রী, ইতালি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে ইতালি ভূ-মধ্যসাগরে তার হারানো প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে লিবিয়া তার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রকে পাশে পাচ্ছে। এই নতুন মেরুকরণ আগামী দিনে লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
সুত্র : আনসা : রয়েটাস

