রোম, ইতালি: দেশীয় অর্থনীতি সচল রাখা, আবাসন সংকট নিরসন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা ও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে ইতালির জর্জিয়া মেলোনি সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেই সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিতে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
১. জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ-গ্যাসে বড় ছাড়
চলতি বছরের ৬ জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের ওপর কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে ইতালি সরকার। একই সাথে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে দেশের দুস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিশেষ বোনাস বৃদ্ধি করে ৩১৫ ইউরোতে উন্নীত করা হয়েছে।পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংকটের কারণে যেন দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম নাগালের বাইরে না যায়, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) কাছে অর্থনৈতিক নীতিতে আরও নমনীয়তা এবং বাড়তি বাজেট ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি চেয়েছে ইতালি সরকার।
২. আবাসন সংকট নিরসনে ১০ বিলিয়ন ইউরোর মেগা প্রকল্প
দেশের তীব্র আবাসন সংকট মোকাবিলায় এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মেলোনি প্রশাসন। আগামী ১০ বছরে ১০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে ১ লক্ষ নতুন বাড়ি নির্মাণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ে থাকা ৬০ হাজার পরিত্যক্ত সরকারি ঘর সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।
৩. দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পুনরায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ
জ্বালানি খাতে পরনির্ভরশীলতা কাটাতে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা। ইতালিতে পুনরায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সমস্যার একটি স্থায়ী, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী সমাধান নিয়ে আসবে।
৪. অবৈধ অভিবাসন ও প্রত্যাবাসনে বড় সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী আগমনের হার ৮০ শতাংশ কমেছে। একই সাথে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যাবাসন) হার পূর্বের মাত্র ৪ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
৫. উগ্রবাদ রুখতে ‘সেপারেটিজম ল’
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় উগ্রবাদ রুখতে ‘সেপারেটিজম ল’ (বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী আইন) নিয়ে কাজ করছে ইতালি সরকার। এই নতুন
দেশের সকল মসজিদের অর্থায়নের উৎস স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।জোরপূর্বক বিয়ে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।
আবাসন, জ্বালানি ও সুরক্ষায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নতুন পরিকল্পনা
আপডেট:

