রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

ট্রাম্পের দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’, মেলোনি ওয়াশিংটন সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ইতালি

আপডেট:

রোম ডেস্ক :​জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলার জন্য ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ‘মিনতি’ করেছিলেন—ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রত্যাখ্যান জানিয়েছেন মেলোনি। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র কখনোই কারো কাছে অনুনয়-বিনয় করে না।
​এই ঘটনার জেরে রোম ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ইতালীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার নির্ধারিত মিয়ামি সফর ইতিমধ্যেই বাতিল করেছেন।কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কেবল ছবি তোলার ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক মনস্তাপ। হরমুজ প্রণালী ও ইরান ইস্যুতে ইতালির কাছ থেকে আশানুরূপ ও পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।ন্যাটো (NATO) নিয়ে অসন্তোষ: ইতালির এই অবস্থানের কারণে মেলোনি প্রশাসন এবং সামগ্রিকভাবে ন্যাটোর (NATO) ওপর ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যে।
​ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জনগণের ক্ষোভ, ​ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইতালির শীর্ষ নেতৃত্ব মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ওয়াশিংটনের আচরণকে একযোগে ধিক্কার জানিয়েছেন ​”এই ঘটনা ট্রাম্পের চরম ‘রুচিহীনতা’র বহিঃপ্রকাশ।”
— গুইদো ক্রোসেত্তো, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ইতালি
​রাষ্ট্রপতির সংহতি: ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংহতি প্রকাশ করেছেন।
​কূটনৈতিক বয়কট: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রোম এই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্কেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত