রোম ডেস্ক:ইতালি ও ফ্রান্স সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ এবং মানবিক সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। গত ২০২৫ সালে এই সীমান্তের ভেনটিমিগ্লিয়া ও মেন্টন ক্রসিংয়ে ১৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক যৌথ রিপোর্টে এই সীমান্তে চরম সামাজিক ঝুঁকি ও মানবিক সংকট বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।আগে মরক্কো ও তিউনিসিয়া শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশিরা দখল নিয়েছে। কারিতাস ইন্টারমেলিয়া এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সীমান্তে আটক হওয়া অভিবাসীদের জাতীয়তার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অতীতে মরক্কো এবং তিউনিসিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও, বর্তমানে তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইতালির সার্বিক অভিবাসন পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গত দুই বছর ধরে সমুদ্রপথে বার্ষিক প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ ইতালিতে প্রবেশ করছেন, যা বর্তমানে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। ইতালিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার (International Protection) জন্য আবেদন করার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। আগের বছরে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১৯৯ জন, বর্তমানে তা বেড়ে ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।’ডাবলিন প্রবিধান’ ও নতুন সংকট আইনের কারনে, সীমান্তে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইউরোপের ‘ডাবলিন প্রবিধান’ (Dublin Regulation)। ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে অনেক আফগান নাগরিক তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়ার কারণে এবং এই প্রবিধানের বেড়াজালে পড়ে পুনরায় ইতালিতে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিবাসন বিশ্লেষক ও অধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমান্ত কঠোর করার ফলে এবং আইনি জটিলতায় হাজার হাজার অভিবাসী এখন খোলা আকাশের নিচে, তীব্র অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

