শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

রোমে দুর্বৃত্তের ছুরির আগাতে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আপডেট:

ইতালির রাজধানী রোমে এক দুর্বৃত্তের ছুরির আগাতে বাংলাদেশী অভিবাসী ও তার স্ত্রী শিশু সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাটের বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে যান পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।পরে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরেও ছুরির আঘাত ছিল। তবে সেই আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না। ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে- সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে ছুরির আঘাত ছিল এবং সেই আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পুরোপুরি অজানা। এতে তদন্তকারীরা দ্বন্দ্বে পড়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়।রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরোর গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করে। অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করছে যে ঘটনায় পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, শুধু তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। আর হত্যাকারী এখনো ধরা পড়েনি বলে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।এই হত্যাকান্ড রোমে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা আতংকিত। বাংলাদেশী অভিবাসীদের মাঝ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের এই নিয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত