সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

আন্দ্রিয়া-কোরাতো ট্রেন দুর্ঘটনার এক দশক” নিহতদের স্মরণে অশ্রুসজল চোখে পুগলিয়ায় রাষ্ট্রপতি মাত্তারেল্লা”

আপডেট:

পুগলিয়া, ইতালি: আন্দ্রিয়া ও কোরাতো-র মধ্যবর্তী এক-লেনের লাইনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার এক দশক পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের ১২ই জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে নিহত ২৩ জন এবং আহত ৫১ জনকে স্মরণ করতে পুগলিয়ায় ফিরে এসেছেন ইতালির প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লা। সেখানে তিনি নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন, পরম মমতায় তাদের হাত ধরেন এবং চুম্বন করেন।শোকের মুখে মানুষ একত্রিত হলে যে শক্তি প্রকাশ পায়, তার প্রতীক হিসেবে একটি বিশেষ ভাস্কর্য উন্মোচন করেন রাষ্ট্রপ্রধান। এরপর পুগলিয়ার গভর্নর আন্তোনিও ডিকারো এবং আন্দ্রিয়ার মেয়র জিওভান্না ব্রুনোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যা ঘটেছে তা অকল্পনীয়।” একই সাথে তিনি তাঁদের দুজনের প্রতি তাঁর গভীর “সংহতি ও ঘনিষ্ঠতা” প্রকাশ করেন।আন্দ্রিয়া ট্রেন স্টেশনের সামনের চত্বরে, যার বর্তমান নাম রাখা হয়েছে ‘লার্গো ১২ জুলাই ২০১৬’, সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাত্তারেল্লা দুর্ঘটনায় নিহত এক ট্রেন চালকের অশ্রুসজল বাবার হাত ধরেন এবং চুম্বন করেন।সেখানেই তিনি দেখা করেন ভিনসেঞ্জো তেদোনে নামে আরেকজন শোকার্ত বাবার সাথে, যিনি দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ বছর বয়সী ফ্রান্সেস্কোর পিতা। ফ্রান্সেস্কো ছিল এই দুর্ঘটনার অন্যতম কনিষ্ঠ শিকার, যে কি না জাপান থেকে পড়াশোনার এক দারুণ অভিজ্ঞতা শেষ করে ফেরার মাত্র দুই দিন পরই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়। নিজের সেই রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প কাউকে বলার সুযোগটুকুও পায়নি ছেলেটি।স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভিনসেঞ্জো তেদোনে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আরে, আপনার ছেলে তো সবসময় আপনার পাশেই থাকে।” ভিনসেঞ্জো যখন জিজ্ঞেস করেন, “প্রেসিডেন্ট, আমাকে কি আপনার মনে আছে?” মাতারেলা তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, “সেই ছোট্ট জাপানি ছেলেটা।” রাষ্ট্রপতির এই আন্তরিকতায় আপ্লুত হয়ে বাবা ভিনসেঞ্জো বলেন”এটা একটা দারুণ সাক্ষ্য ছিল। এর মানে হলো তিনি খোঁজখবর রাখেন, এর মানে হলো তিনি অন্তত খেয়াল রাখেন।”ট্র্যাজেডির নেপথ্যে এবং আইনি প্রক্রিয়াদুটি ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষটি ঘটেছিল ফেরোত্রামভিয়ারিয়া (Ferrotramviaria) পরিচালিত এক-লেনের আন্দ্রিয়া-কোরাতো লাইনে। সেই সময়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো একটি প্রাচীন ‘টেলিফোন ব্লক সিস্টেম’ দিয়ে।প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের আদালতের রায়ে ইতিমধ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মূলত “মানবিক ভুলের” কারণেই এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছিল। আপিল আদালতের রায় অনুযায়ী
​ভিতো পিকাররেটা (আন্দ্রিয়া স্টেশনমাস্টার) ৬ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড।নিকোলা লোরিজো (কন্ডাক্টর) ৬ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড।বিচারকরা এই ঘটনায় ফেরোত্রামভিয়ারিয়ার কোনো প্রশাসনিক অন্যায়ের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এবং বাকি ১৪ জন আসামিকে খালাস দিয়েছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষ আজ নিহত ও আহতদের প্রতি পুনরায় সমবেদনা জানিয়েছে। আগামী ৭ই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট অফ ক্যাসেশনে (Supreme Court of Cassation) এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই স্মরণ সভাটি শুরু হয় অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রপতি মাতারেলা দুর্ঘটনা স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের নিচে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সমবেত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সবশেষে নিহত ২৩ জন নাগরিকের স্মরণে ২৩ বার ঘণ্টার ধ্বনি দেওয়া হয় এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের প্রত্যেকের নাম পাঠ করা হয়।
তথ্য সুত্র / ফটো : আনসা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত