মিনহাজ হোসেন, নাপোলি (ইতালি):ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাপোলির রাজপথে নিজেদের অধিকার আদায়ে গর্জে উঠেছেন হাজারো অভিবাসী। আর এই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এক বিশাল অংশ জুড়ে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
নাপোলির স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘Ex OPG’ এবং অভিবাসী অধিকার আন্দোলনের যৌথ আহবানে সম্প্রতি শহরটিতে এই ঐতিহাসিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
পিয়াৎসা গ্যারিবল্ডি থেকে অধিকারের জনসমুদ্র
বিখ্যাত আফ্রিকান বিপ্লবী থমাস শঙ্কারার ঐতিহাসিক উক্তি—’আসুন ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস করি’—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে নাপোলির পিয়াৎসা গ্যারিবল্ডি চত্বর রূপ নিয়েছিল এক বিশাল প্রতিবাদী জনসমুদ্রে। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক ‘করসো উমবের্তো ১’ পদক্ষিণ করে নাপোলির প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র ‘পিয়াৎসা দেল প্লেবিশিতো’ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ, এবারের আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল প্রবাসী বাংলাদেশীদের অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজপথে নামা আন্দোলনকারীদের প্রায় অর্ধেকই ছিলেন বাংলাদেশী প্রবাসী। স্থানীয় ইতালীয়দের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশীদের এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, পরবাসের মাটিতে নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, আন্দোলনকারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে অন্যতম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান। ইমিগ্রেশন অফিসের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে অভিবাসীদের দ্রুত বৈধ কাগজ বা ‘পেরমেসো দে সোজর্ন’ (Permesso di Soggiorno) নিশ্চিত করা। নাপোলিতে চলমান তীব্র আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। অমানবিক ‘সিপিআর’ (CPR) বা অভিবাসী আটক শিবিরগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। গাজায় অবিলম্বে অমানবিক যুদ্ধবিরতির দাবি।”ইমিগ্রেশন ও আবাসন সমস্যার স্থায়ী সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই থামবে না। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো।”ইতালির মাটিতে বাংলাদেশীদের এই জোরালো অবস্থান দেশটির প্রশাসনকে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নাপোলির রাজপথে হাজারো অভিবাসীর অংশ নিয়েছে বাংলাদেশীরা
আপডেট:

