শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মেজর আক্তার,ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

আপডেট:

আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
জেলা রিটার্নিং অফিসারের বাতিল করা প্রার্থীতা নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ফিরে পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

বিজ্ঞাপন

মনোনয়নপত্রের সাথে যুক্ত করা হলফনামায় মামলা ও ঋণের তথ্য না দেওয়ায় তথ্য গোপন করার কারণ উল্লেখ করে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী আশরাফ আলী ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আহসান উল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ আসনে মো. আব্দুল কাহার আকন্দ (আওয়ামী লীগ),মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম (গণফ্রন্ট), অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন (স্বতন্ত্র), আলেয়া (এনপিপি) ও মো. বিল্লাল হোসেন (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট) নির্বাচনে অংশ নিবেন।

বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ -২ আসনের বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদকে হটিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত ডি আইজি, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ।এই আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হওয়ায় খুশি আব্দুল কাহার আকন্দর কর্মী সমর্থকরা।
এর আগে তিনি মনোনয়ন চেয়ে শতাধীক সভা-সমাবেশ ও ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন এলাকায়।বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা,জাতীয় চার নেতা হত্যা,২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মামলা গুলি তদন্ত করেছেন।তাই এবার তিনি সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে হটিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
তবে এ আসনে সমীকরণ একটু জটিল।কারন এ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করবেন।তাই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হবে বলে মনে করছে সাধারণ ভোটাররা।
১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল কিশোরগঞ্জ-১ আসন এবং কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল কিশোরগঞ্জ-২ আসন। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে জেলার নির্বাচনী এলাকাকে পুনর্বিন্যাস করে ৭টির পরিবর্তে ৬টি সংসদীয় আসন করা হয়। হোসেনপুর উপজেলাকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে কিশোরগঞ্জ-১ এবং পাকুন্দিয়া উপজেলাকে কটিয়াদী উপজেলার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসন হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।তিনি নির্বাচিত হবার পর তার সাথে সাবেক সংসদ সদস্য এড.সোহরাব উদ্দিনের মধ্যে কোন্দল নজিরবিহীন পর্যায়ে ঠেকে।২০২১ সালে সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটি পেলেও সেই কমিটিকে ঘিরে বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদ সমর্থকদের সঙ্গে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংঘাত-সংঘর্ষ নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তাই এবার বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদ ও সাবেক এমপি এড.সোহরাব কাউকেই নমিনেশন দেয়া হয় নি বলে মনে করছে সাধারণ ভোটাররা।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবী বর্তমান ও সাবেক এমপির মধ্যে বিদ্যমান কোন্দলের কারনেই এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন দুজনেই।তাই পরিচ্ছন্ন ব্যাক্তি হিসেবে সাবেক অতিরিক্ত ডি আইজি আব্দুল কাহার আকন্দকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।তবে এ আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর বিজয় কঠিন হবে।কারন বিএনপি থেকে ১৯৯১ সাল ও ১৯৯৬ সালে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন।
তখন শুধু কটিয়াদি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল কিশোরগঞ্জ-২ আসন।এবার তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছে তার কর্মী সমর্থকরা।স্বতন্ত্র নির্বাচনের লক্ষ্যে তিনি মনোনয়ন কিনেছেন ও তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা ও করেছেন ইতিমধ্যে।
তিনি বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় ও বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন সমর্থক নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এ-ই আসনের সমীকরণ একদম সোজা!এ আসনে জনপ্রিয় প্রার্থী মেজর আখতার।তাই তিনি নির্বাচন করলে কটিয়াদি পাকুন্দিয়ার সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হবেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের সমর্থকদের দাবি, এ নেতার মূল শক্তি এলাকার ‘ভোটব্যাংক’।তিনি ঘন ঘন এলাকায় যান। লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়সহ সভা-সমাবেশ করেন। এ কারণে অনেকে মনে করছে,আগামী নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।
স্থানীয় লোকজনের মতে, বিএনপি থেকে দূরে থাকলেও এলাকার লোকজনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সব সময় থাকে। কাজেই তিনি যদি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন তাহলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর জন্য বিজয় কঠিন হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত