আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ ৫ আসন।বাজিতপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ও হাওর বেষ্টিত নিকলী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে উজান-ভাটি মিলে এক অভিন্ন সংস্কৃতির জনপদ নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসন। নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে লড়াই জমে উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের কেন্দ্রীয় যবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল সি আইপি ও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী তিনবারের এমপি আফজাল হোসেন এর মধ্যে।দুজনই প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করছেন।নৌকা ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীদের পোস্টার এখন শোভা পাচ্ছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে।আলোচনা চলছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে ও জনসমাগম হয় এমন স্থানে।
এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি মোঃ আফজাল হোসেন।তবে এ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বাবু সুব্রত পাল।কারন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।সার্বক্ষণিক নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত গণসংযোগ করছেন।তাকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে নিকলী বাজিতপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা।সদা হাস্যউজ্জল এই যুবলীগ নেতার রাজনীতির মাঠে রয়েছে ক্লিন ইমেজ।মিশুক প্রকৃতির এই নেতা এলাকার লোকজনের বিভিন্ন ভাবে উপকার করে আসছে।যার ফলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন এমনটাই মনে করেন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল (সিআইপি) ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আফজাল হোসেন।কারন এবার তার জয়ের প্রধান বাধা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পাল।সুব্রত পাল দীর্ঘদিন যাবত নিকলী-বাজিতপুরে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায় গণসংযোগ করেছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।বাজিতপুর- নিকলীর আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা এবার নৌকার প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনের বিকল্প চান। কারণ বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কয়েক ভাগে বিভক্ত। তারা এবার ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার বিকল্প স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পালের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা যায়।ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন বলেন,নৌকার বর্তমান সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনকে সাধারণ জনগণ পছন্দ করে না। কারণ তার অনুসারী ও আত্মীয়-স্বজন এ আসনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাই এবার ভোটাররা তার পক্ষে নেই। তা ছাড়া আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পালের পক্ষে কাজ করছি।স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পাল বলেন,’নিকলী-বাজিতপুরের মানুষ সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়। আমি মনে করি এখন তাদের সে সুযোগ তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেজন্য তিনি দলের প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।দলের পক্ষ থেকেও কিন্তু যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য দলীয় নেতাকর্মী বিশেষ করে এলাকার জনগণ তাদের ইচ্ছেমতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। আমি আশা করি (নিকলী-বাজিতপুরের) মানুষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে জয়ী করবেন।নৌকার প্রার্থী আফজাল হোসেন জানান, জনগণ তথা ভোটাররা তার সঙ্গে আছেন বলেই তিনি নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি আবারও এমপি হবেন- তা সময়ই বলে দেবে।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে সুব্রত পালের ঈগল চ্যালেঞ্জে আফজালের নৌকা
আপডেট:

