শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

শেষ হয়ে গেলো সেনাছাউনিতে জন্ম নেয়া বিএনপি

আপডেট:

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২১.০৯.২০২৩

সামরিক শাসক মেজর জিয়া সেনাছাউনিতে প্রথমে তৈরি করেন “জাগদল” এবং পরবর্তীতে তিনি সামরিক উর্দিতে থেকেই ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী কে মহাসচিব করে বিএনপি নামক এই দলটা করেছিলেন। দলে যারা নেতা-নেত্রী একত্রিত হয়েছিলো তার অধিকাংশ ই স্বাধীনতা বিরোধী, ব্যর্থ রাজনৈতিক দলের উচ্ছিষ্ট ভোগী, ভাসানী সাহেবের “ন্যাপ” থেকে আগত, মুসলিম লীগ, জামাতের কিছু ইত্যাদি নিয়ে বিএনপি!
১৯৭৮ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠিত হলে আমরা যারা পরবর্তী তে লেখালেখি তে যুক্ত হই B N P
কে Basically No Party বলে আখ্যায়িত করতাম অনেকটা ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে। কারন দলটা দারুন ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো! যেমন “বাঙলাদেশ জাতীয়তাবী দল” , কোন জাতীয়তাবাদী, মুজিব ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা। জাতি নির্ধারিত হয়, হয় ভাষা না হয় ধর্ম দিয়ে। জিয়ার বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস ছিলো না বলে নাগরিকত্ব কে জাতি করলেন, বাঙালাদেশি। তা হলে বাঙালি আর মুসলমান জাতি ছাড়া জাতীয়তাবাদী দল কথাটা দারুন মিথ্যার উপর দাড়ানো। পাকিস্তানের সবাই পাকিস্তানি
(as per citizen) কিন্তু ভাষা ভিত্তিক কেউ পাঞ্জাবি, ভারতে কেউ পাঞ্জাবি কেউ বাঙালি কিন্ত সবাই ভারতীয় বা ইন্ডিয়ান!

বিজ্ঞাপন

রাজাকে রাজনীতি জানতে হয়, ৪৫ বছর আগের দলটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্র নিয়ে গঠিত হলেও একের পর ভুল, দেশপ্রেমে ঘাটতি দলটা গ্রাস রুট লেবেলে সমর্থক থাকলেও সচেতন নাগরিক তাদের অজ্ঞতায় ক্ষুব্ধ। শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সন্মেলনে যেয়ে দেশের ব্যবসা গুছাচ্ছেন, আমেরিকার ক্রোধ প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন, খালেদা ভারতে গেলে প্রধান বিষয় পানির সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে ভুলে যান। তা আবার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলে নিজ সৌন্দর্য প্রদর্শন হেসে একাকার করেন!

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বের হয়ে যেয়ে ২০১৫ সালের “তৃনমুল বিএনপি” গঠন করেন, ২০২৩ সালের ১৬ ই ফেব্রুয়ারী নিবন্ধন পান এবং ১৯শে ফেব্রুয়ারী মৃত্যু বরন করেন। গতকাল ২৭ সদস্য নিয়ে নাজমুল হুদার বড় মেয়ে ব্যারিষ্টার অন্তরা হুদা তৃনমূলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন থেকে চেয়ারপারসন করেছেন শমসেরের মমিন চৌধুরী কে এবং মহাসচিব করেছেন তৈমুর কে! সেই তৈমুর যার পপুলারিটি আকাশ চুম্বি, যার ভাইকে নারায়ণগঞ্জ পতিতা পল্লীর মালিক খালেদার স্নেহ ভাজন “জাকির” হত্যা করেছিলো! খালেদা বিচার তো করেন নাই বরং তৈমুর কে দল থেকে বের করেছিলেন! আজ বিএনপির আসল লোক গুলো চলে এলো “তৃনমুল বিএনপি” তে।
তারা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবেন এবং তারা তত্বাবধানয়ক সরকারের কোন যৌতিকতা দেখেন না!

বিজ্ঞাপন

তাহলে হিসাবটা কি দাড়ালো? এরশাদের জাতীয় পার্টি, তৃনমুল বিএনপি নির্বাচন করলে খালেদার বিএনপি নির্বাচন না করলে তাতে কিবা কার আসে যায়। তৃনমুল বিএনপি ই হলো এখন আসল বিরোধী দল যেখানকার সদস্যদের নাম শুনলে আপনি বলবেন
মা ছেলের দল
গরু বিহীন গোয়াল!

মেজর হাফিজ থেকে সবাই আছে। শেষ হয়ে গেলো সেনাছাউনিতে জন্ম নেয়া বিএনপি!

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।
রাজাকে রাজনীতি জানতে হয়
ধর্ম ধোকা, ঘোষক জিয়া, বহু দলের প্রত্যাবর্তক জিয়া বলে, সংবিধানে বিসমিল্লাহ লিখেছি ইত্যাদি ধোকায় মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু অশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ সমর্থক জোগাড় করেছিলো, (তারা তো জানে না কাদের ফ্রিজে বিদেশি মদ থাকে, কারা যৌন স্ক্যান্ডলে জড়িত) এর পিছে আওয়ামীলীগের ও অবদান আছে (তা আর বললাম না)!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত