লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ২৬.০৩.২০২৪
২৫ মার্চ রাত ঠিক বারোটায় অপারেশন সার্চ লাইট নামে সাজোয়া ট্যাংক নিয়ে ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।আক্রমণ করা হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ইপিআর হেড কোয়ার্টার পিলখানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সমূহ ও হিন্দু এলাকা পুরান টাউন। এই অপারেশন সার্চ লাইটের পরিকল্পনা ছিলো “মেজর জেনারেল খাদিম রাজা” ও “মেজর জেনারেল রাও ফরমান”! ২২ শে মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্হগীত ঘোষণা করা হয়! ইয়াহিয়া খান গোপনে ২৫ মার্চ ঢাকা ত্যাগ করেন!
২৫ শে মার্চ লেট নাইট বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ইপিআর ওয়ারলেস এর মাধ্যমে তাকে রাত দেড়টায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করতে আসা মেজর জেড এ খান তার বাহিনী নিয়ে গুলি করতে করতে ৩২ নাম্বার ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে দোতালায় ওঠে এবং বঙ্গবন্ধু কে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে দেখেন যা তিনি তার লিখিত বই The Way It Was এ উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এ ও উল্লেখ করেছেন, ঘোষণা করা হয়েছিলো ইপিআর ওয়ারলেসে যা তিনি পরীক্ষা করে ঐ টাওয়ার সংযোগ পান! তার বই এ তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার শেষ বাক্য গুলো ও তুলে দিয়েছেন।
—— this may be my last message, from today Bangladesh is independent, I call upon the peoples wherever you have, to resist the army occupation to the last, your fight must go on untill the last soldier of the Pakistan occupation Army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved!
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা, গ্রেফতার সময় বিবিসি ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা “ডন” নিশ্চিত করেছিলো। বঙ্গবন্ধু কে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং “মিয়ান ওয়ালী” কারাগারের এক নির্জন অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়!
প্রিয় পাঠক, আমি যখন এ লেখা লিখছি ঠিক ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ সালের এমন সময় রাত ১২ টার পর আমার উপরে উল্লেখিত স্হানগুলোতে পাকিস্তানি সাঁজোয়া ট্যাংক পৌছে গেছে এবং অগ্নি সংযোগ ও গুলি করে নিরিহ জনগন হত্যা শুরু করে দিয়েছে! ঘুমন্ত জনগন তখন দিগবিদিক ছুটাছুটি করছে যা আজ-ও আমার পক্ষে অনুমান করা সম্ভব!



