কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ধান ক্ষেতে লাশ পাওয়া চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস বুরহান(২৩) হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং উক্ত মামলার মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারী আসামী জাকির হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১৪,সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প।
জানা যায়,গত ২৬ মার্চ বিকাল অনুমান পৌনে ৫ টার সময় ভিকটিম মোঃ বুরহান(২৩) তার নীজ বাড়ি থেকে বাহির হয়ে শিবনাথ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ভিকটিম ঘরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খোজাখুজি করতে থাকে। পরবর্তীতে পরদিন ২৭ মার্চ দুপুর অনুমান ২:৩০ টার সময় ভিকটিমের পরিবার লোকমুখে সংবাদ পায় যে, কটিয়াদী উপজেলার নাগেরগ্রাম এলাকার দত্তের বাড়ীর পশ্চিম পাশে মুলতার মোড় কুমড়ি বিলের মাঝখানে জনৈক হাতিম মিয়ার ধান ক্ষেতে একটি লাশ পড়ে আছে।এ সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম মোঃ বুরহান(২৩) এর ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মৃতের মা মোছাঃ পারভিন আক্তার(৩৮) বাদী হয়ে কটিয়াদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি।এ মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত আসামীদের ধরতে র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকান্ড ঘটনার সাথে কটিয়াদি উপজেলার নাগের গ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকার ছকবুল হোসেন এর ছেলে জাকির হোসেন ওরফে অজু(৩৮) জড়িত বলে নিশ্চিত হয়।
র্যাব জানায়,ঘটনার দিন থেকে জাকির হোসেন ওরফে অজু(৩৮) পলাতক থাকে যা আমাদের সন্দেহকে আরও দৃঢ় করে। জাকির হোসেন ওরফে অজুকে আটক করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়।সর্বশেষ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন রসুলপুর এলাকায় আত্নগোপনে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রবিবার ৩১ মার্চ সকাল সাড়ে ৮ টার সময় র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ আশরাফুল কবির এর নেতৃত্বে এবং র্যাব-১০ এর সহায়তায় র্যাবের একটি চৌকশ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন মধ্য রসুলপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জাকির হোসেন ওরফে অজু এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে মর্মে স্বীকার করে এবং আরও স্বীকার করে যে, ভিকটিম মোঃ বুরহান সম্পর্কে তার ভাতিজা হয় এবং তার সাথে খুব সুসম্পর্ক ছিল। আসামী জাকির হোসেন একই এলাকার নিজাম উদ্দিন এর ছেলে এরশাদ হত্যা মামলার ১নং আসামী। সে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলাটি আপোস করার জন্য একাধিক বার নিজাম উদ্দিনের সাথে বিভিন্ন মারফতে আপোসের চেষ্টা করে। কিন্তু নিজাম উদ্দিন আপোসে সম্মত না হওয়ায় এবং ভিকটিম মোঃ বুরহান এর পরিবারের সাথে জমিজমা নিয়ে আসামী জাকির হোসেন ওরফে অজুর আত্নীয় স্বজনদের বিরোধ থাকায় আসামী জাকির হোসেন অন্যান্য পলাতক অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামী মিলে ঘটনার প্রায় ১৫/২০ দিন পূর্বে ভিকটিম মোঃ বুরহানকে হত্যা করা এবং এ হত্যার দায় নিজাম উদ্দিনের উপর চাপানোর পরিকল্পনা করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ ঘটিকার সময় ভিকটিম বুরহান নাগেরগ্রামে আসলে, আসামী জাকির হোসেন ওরফে অজু কৌশলে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং অন্যান্য আসামীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে এসে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাত অনুমান ১ টার সময় ভিকটিম মোঃ বুরহানকে হত্যা করে।
গ্রেফতার আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কটিয়াদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস বুরহান হত্যার মূলহোতা জাকির গ্রেফতার
আপডেট:

