সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নরুল কবিরে হামলা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’

আপডেট:

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কার্যালয় ও ছায়ানটে হামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে নাগরিক সমাজ। পরিকল্পিত এ হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।মুখোশধারীদের গুলিতে আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মধ্যরাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একই সময়ে আক্রান্ত হয় ডেইলি স্টার কার্যালয়ও। সেখানে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। এছাড়া ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও ভাংচুর করা হয়। কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ফলে ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পত্রিকা দুটির ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সমাবেশ করে নাগরিক সমাজ। এর আগে তারা ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনের সামনেও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে যে হামলা দেখা গেছে, সেই হামলা পরিকল্পিত। এটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার একটি জঘন্য প্রচেষ্টামাত্র। এ অপরাধীদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিও জানান সামিনা লুৎফা। এক সপ্তাহেও হামলাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিনেও অপরাধীরা ধরা না পড়া এবং খামখেয়ালিপনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় নাগরিক সমাজ।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান, আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন।এদিকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বিকালে মানববন্ধন করেন প্রথম আলোর কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরাও যোগ দেন।হামলার ঘটনাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ। তিনি বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল সংগঠিত গোষ্ঠী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। সে সময় সাংবাদিকরা ১৯ ডিসেম্বরের পত্রিকা তৈরি এবং অনলাইন পোর্টাল পরিচালনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হামলাকারীরা ভবনের ভেতর ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এতে ভবনে থাকা মূল্যবান সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভস্মীভূত হয়। হামলার তীব্রতায় প্রাণ বাঁচাতে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত