রাত তখন পৌনে ১১টা। কনকনে শীত উপেক্ষা করে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এখনো শত শত মানুষের উত্তাল স্লোগান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ এখন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা আজ রাতভর শাহবাগেই অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বিছানা-চাদর বিছিয়ে বসে পড়েছেন।রাত সাড়ে ১০টার পর দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের চারদিকের রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, সায়েন্স ল্যাব এবং টিএসসি অভিমুখী প্রতিটি রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো বিকল্প পথে চলাচলের চেষ্টা করলেও মূল চত্বরটি এখন পুরোপুরি বিক্ষোভকারীদের দখলে।শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছালে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা সংহতি জানিয়ে যোগ দেয়। বিকেলের পর থেকে এই জমায়েত ক্রমে বাড়তে থাকে।
অবরোধ স্থলে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। সরকার সেই সময়সীমার মধ্যে খুনিদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আর কোনো আপস নেই, এই আন্দোলন লাগাতার চলবে।তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সরকারের পদত্যাগ এখন তাদের মূল দাবি নয়, বরং খুনিদের বিচার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা সশরীরে এখানে এসে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত এবং খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছাড়ব না।রাত বাড়ার সাথে সাথে শাহবাগের চিত্র আরও দৃঢ় হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দের আহ্বানে ছাত্র-জনতার জমায়েত কমছে তো নাই-ই, বরং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে আরও মানুষ যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন— ‘উসমানের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’। নিরাপত্তার জন্য মোড়ে মোড়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ভলান্টিয়াররা পাহারা দিচ্ছেন

