শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি আরবের অসন্তোষ

আপডেট:

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন দিলেও পরে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এমনকি এক পর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ মতবিনিময়ও হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নেয়। তবে এ অভিযানের জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও রিয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করে।এ সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক জরুরি ফোনালাপ করেন। তবু নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফলে পরিকল্পনা ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন।ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের গবেষক হুসেইন ইবিশের মতে, সৌদি নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সুবিধা দিলে ইরানের পাল্টা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে দেশটি। এ কারণে তারা ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা হারিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সৌদি আরব একদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপন্থী কৌশল অনুসরণ করেছে। যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে তারা পরে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নেয়।একই সময়ে রিয়াদ আঞ্চলিক কূটনীতিতে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ জোরদার করেছে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে সৌদি আরব। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্ব এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনকে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেয়।নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আরও স্পষ্ট করেছে। সৌদি আরব এখন ক্রমেই এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারের চেয়ে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত