শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ‘পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মার্ক কারনি

আপডেট:

করা হয়েছে তার মধ্যে শতকরা প্রায় ৪০ ভাগই চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তিনটি বাণিজ্যিক অংশীদার তারা। এমন অবস্থায় ট্রাম্প যখন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে, তাতে নতুন করে একটি বড় রকম বাণিজ্যিক যুদ্ধের শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র্রে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। শুক্রবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, আমরা যেটা প্রত্যাশা করি, এটা তা নয়। যদি আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদেরকেও ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে নিজেদের মতো করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের বিষয়ে আগেই জানান দিয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। তারা ওয়াশিংটনকে এটা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিয়ে যে উদ্বেগ আছে, তার প্রেক্ষিতে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি কানাডা ও মেক্সিকো থেকে তেল আমদানি করে তাতে শুল্কের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাবে। এতে জনগণের জীবনযাত্রার খরচ কমিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার প্রতি একটি ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। বিদেশে উৎপাদিত কোনো পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে যে ট্যাক্স দিতে হয় সেটাকেই এক্ষেত্রে শুল্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার ফলে যখন পণ্যের দাম বেড়ে যাবে তখন জনগণ তার চাহিদা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে। তবে এর নেপথ্যে অন্য একটি উদ্দেশ্য আছে। এই সুযোগে স্থানীয় পর্যায়ে সস্তার পণ্য বিক্রি বৃদ্ধি করা। তাতে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বা জ্বালানিতে শুল্ক আরোপের ফলে তা ব্যবসা এবং ভোক্তাদের মধ্যে সঞ্চালিত হতে পারে। এর ফলে পেট্রোল থেকে শুরু করে মনোহারি পণ্য পর্যন্ত সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ অশোধিত তেল আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো। এর বেশির ভাগই যায় কানাডা থেকে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ‘পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মার্ক কারনি। তিনি যদি মার্চের নির্বাচনে দলীয় নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে ২০শে অক্টোবরের আগেই একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য ফেডারেল নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ কনজার্ভেটিভ পার্টির থেকে পিছিয়ে আছে লিবারেল পার্টি। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় মার্ক কারনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন তার পদক্ষেপে কানাডা গর্তে লুকাবে। কিন্তু আমরা ভেঙে পড়বো না। অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে। এ জন্য আমরা একতাবদ্ধ এবং আমরা প্রতিশোধ নেবো। তিনি আরও বলেন, এই শুল্ক আরোপ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করবে। এর ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এজন্য তাদের সুদের হার বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এটা দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্র তার নিকটতম বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যত বাণিজ্যিক চুক্তি ছিন্ন করছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা এগ্রিমেন্ট (ইউসিএমসিএ) কার্যকর হয়। কার্যত এটা হলো নাফটা চুক্তির একটি আধুনিক রূপ। এই তিনটি দেশের মধ্যে এই নাফটা চুক্তি ছিল। তা ১৯৯০-এর দশক থেকে কার্যকর ছিল। এমন অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন করে যে শুল্ক আরোপ করা হলো তাতে কানাডা অর্থনীতিতে অবিলম্বে বিধ্বংসী প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের জন্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে অনেক বেশি। কানাডার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, নতুন শুল্কের জবাবে অবিলম্বে, জোরপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে কানাডা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত