শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

ইউরোপের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীরাই এখন প্রধান শক্তি: ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড

আপডেট:

​নিজস্ব প্রতিবেদক | বার্সেলোনা, স্পেন
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইউরোপের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিবাসী বা প্রবাসীদের অবদান নিয়ে এক ঐতিহাসিক এবং ইতিবাচক বার্তা দিলেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড। গত ১৭ এপ্রিল স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে প্রবাসী শ্রমশক্তির কোনো বিকল্প নেই।
​​সম্মেলনে ল্যাগার্ড ইউরোপের বর্তমান শ্রম বাজারের জটিল পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভিবাসী শ্রমিকরা না থাকলে উৎপাদন ও সেবা খাতে খরচ বহুগুণ বেড়ে যেত, যার সরাসরি প্রভাব পড়ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
​বাজার নিয়ন্ত্রণ: প্রবাসী শ্রমিকরা নিয়মিত শ্রম সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ স্থিতিশীল রাখছেন, যা পরোক্ষভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।
​শূন্যতা পূরণ: ইতালি, স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে স্থানীয়দের অনীহা থাকা সত্ত্বেও কঠিন ও শারীরিক পরিশ্রমের কাজগুলো প্রবাসীরা দক্ষতার সাথে করে যাচ্ছেন।
​জিডিপি ও সাপ্লাই চেইনের মেরুদণ্ড
​সম্মেলনের উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান। বিশেষ করে:
​কৃষি ও নির্মাণ খাত: এই দুই খাতের স্থবিরতা কাটাতে প্রবাসীরা মূল ভূমিকা পালন করছেন।
​খুচরা বাণিজ্য: ইতালি ও স্পেনে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীদের পরিচালিত ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো অর্থনীতির নতুন প্রাণশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
​সাপ্লাই চেইন: লজিস্টিকস ও রেস্টুরেন্ট খাতে প্রবাসীদের নিরলস পরিশ্রম সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করছে।”অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা বর্ণবাদ কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয়, এটি সরাসরি অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই শ্রমশক্তি ছাড়া ইউরোপের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত অচল হয়ে পড়বে।”— ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড, প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
​আসছে নতুন অভিবাসন নীতি?​ল্যাগার্ডের এই সাহসী বক্তব্যের পর ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হতে পারে:সহজ ওয়ার্ক পারমিট: বৈধ পথে অভিবাসীদের কাজের অনুমতি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করা।আর্থিক সুবিধা: প্রবাসীদের জন্য ব্যাংক লোন এবং বিশেষ উদ্যোক্তা ফান্ড গঠন।​দক্ষতা মূল্যায়ন: দক্ষ শ্রমিকদের ইউরোপে আনার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
​কেন প্রবাসীরা অপরিহার্য?ইউরোপ বর্তমানে তিনটি প্রধান সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: জনসংখ্যার বার্ধক্য, নিম্ন জন্মহার এবং প্রকট শ্রম ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কর্মস্পৃহা এবং কর প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ইউরোপের রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক ব্যবস্থাগুলোকে সচল রাখছে।
বার্সেলোনার এই সম্মেলন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা এখন বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছেন। প্রবাসীরা কেবল কোনো দেশের অতিথি নন, বরং তারা ইউরোপীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অংশীদার এবং চালিকাশক্তি।
তথ্য সুত্র : রয়টার্স

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত