আফ্রিকার চারটি দেশে সফর শেষে গতকাল রোমে ফেরার পথে এক সংবাদ সম্মেলনে পোপ লিও অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিরও সমালোচনা করেছিলেন অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি বিশ্বের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ‘গৃহপালিত পশু বা প্রাণীর চেয়েও খারাপ’ হিসেবে দেখা হয়। খবর আল জাজিরা।আফ্রিকার চারটি দেশে সফর শেষে গতকাল রোমে ফেরার পথে এক সংবাদ সম্মেলনে পোপ লিও অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিরও সমালোচনা করেছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে পোপ বলেন, অভিবাসীরা মানুষ এবং আমাদের মানুষকে মানবিকভাবেই আচরণ করতে হবে। তাদের গৃহপালিত পশু বা প্রাণীর চেয়েও খারাপভাবে দেখা যাবে না।রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রথম মার্কিন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পোপ লিও এ সময় নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ক্যাথলিক চার্চের ‘প্রো-লাইফ’ শিক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ— কয়েক মাস আগে এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন পোপ। ওই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ক্যাথলিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।গতকাল পোপ বলেন, দেশগুলোর নিজেদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। তবে ধনী দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা, যাতে মানুষকে বাধ্য হয়ে নিজ দেশ ছাড়তে না হয়।তিনি প্রশ্ন রাখেন, দরিদ্র দেশগুলোর পরিস্থিতি পরিবর্তনে ধনী দেশগুলো কী করছে? আর কেন আমরা সেই দেশগুলোর পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করতে পারি না?চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনাও নিন্দা জানিয়েছেন পোপ লিও। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে নীরব থাকার অভিযোগ তুলে তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে পোপ বলেন, ‘আমি সব অন্যায় কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। আমি মানুষের জীবন নেয়ার বিরোধিতা করি।’ইরান যুদ্ধ নিয়ে সরব অবস্থান নেয়ার পর ১২ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে ‘ভয়াবহ’ বলে আক্রমণ করেছিলেন ট্রাম্প। দুদিন পর আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কেউ কি দয়া করে পোপ লিওকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর কথা জানাবে?’আফ্রিকা সফরের আগে পোপ বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ‘বিতর্কে জড়াতে চান না’ এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয়ও পান না।তিনি বলেন, ‘আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলা চালিয়ে যাব। শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংলাপ বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে সমস্যার ন্যায্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’পোপ লিও একুয়েটোরিয়াল গিনি সফর শেষ করে রোমে ফিরেছেন। তার এই আফ্রিকা সফরে তিনি এমন কিছু দেশ সফর করেছেন, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের অধীনে রয়েছে। এসব দেশে সফর নিয়ে সমালোচনার জবাবে পোপ বলেন, ভ্যাটিকান ওই দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় বড় বড় ঘোষণা দিই না। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পর্দার আড়ালে অনেক কাজ হয়।
অভিবাসী ও শরণার্থীদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলা চালিয়ে যাব: পোপ লিও
আপডেট:

