রোম, ইতালি: ইতালির বর্তমান মেলোনি সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে জিডিপির একটি বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি এবং সামাজিক সুরক্ষার বাজেট কাটছাঁট নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গন।
১. সামরিক ব্যয় বনাম জনকল্যাণ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তের মতে, মেলোনি সরকার জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সামরিক খাতে জিডিপির ৫% পর্যন্ত ব্যয় করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা ইতালির নড়বড়ে অর্থনীতির জন্য চরম বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কন্তে একে ‘যুদ্ধকালীন বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে ইতালির দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক মডেল ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়বে।
২. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে চরম অবহেলা
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ইতালির প্রায় ৬০ লাখ নারীর ক্যানসার স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাফির জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না দিয়ে সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে আধুনিক মারণাস্ত্র ক্রয়ের পেছনে। এছাড়া:
শিক্ষা ও গবেষণা: আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে শিক্ষা, গবেষণা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো খাতে বিনিয়োগ না করে কেবল সামরিক শিল্পকে চাঙ্গা করছে সরকার।
সামাজিক সুরক্ষা: ইউরোপের কঠোর ‘অস্টেরিটি’ বা ব্যয় সংকোচন নীতি বিনাবাক্যে মেনে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
৩. অসম শুল্কনীতি ও বড় কোম্পানিকে তোষণ
অভিযোগ উঠেছে যে, আমেরিকাকে তুষ্ট করার নীতি গ্রহণ করতে গিয়ে মেলোনি বড় বড় ওয়েব কোম্পানিগুলোকে (Big Tech) ‘জিরো ট্যাক্স’ সুবিধা দিচ্ছেন। অথচ:
দেশীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিশেষ কর সুবিধা বা প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত আমদানি শুল্ক নীতিকে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ বললেও, সেই অসম চুক্তিতে ইতালির স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান প্রশাসন।আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জার্মানির উত্থান
কন্তে কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয়েই নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন। জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থী দল এএফডি (AfD)-র উত্থান এবং দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির ভবিষ্যৎ ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।সমালোচকদের মতে, ইতালির বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন (স্বাস্থ্য, শিক্ষা) উপেক্ষা করে সামরিকায়ন ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করবে।
মেলোনি সরকারের ‘যুদ্ধকালীন বাজেট’ ও জনস্বার্থ উপেক্ষা: কন্তে
আপডেট:

