আওয়ামী রাজনীতি খোঁজখবরের দুর্গতি!
লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ১০.০৯.২০২৩
সরকারের ভিতর আর একটা সরকার! আওয়ামী রাজনীতি এতই ঢিলাঢালা হয়ে গেছে নেত্রী ছাড়া আর কারো যেন কোন দায় নাই।
১. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়া সিনহা শত বদনাম করে চলে গেলেন। হিন্দু হলেই আমাদের লোক! হিন্দু হলেই আওয়ামীলীগ, কে কষ্ট করে গোয়েন্দা লাগায় তার চৌদ্দ পুরুষের কুষ্ট নামা খোঁজে, হিন্দু তো, দাও “প্রধান বিচারপতি” বানায়, অবশ্য ই বিএনপি বিরোধী হবে, এই ভুল কনসেপ্ট থেকে বর্তমান আওয়ামী নেতারা বের হতে পারেন নাই!
২. আইন মন্ত্রী “সফিক সাহেব” আওয়ামীলীগ কোনদিন করেছিলেন কি না জানি না। নেত্রীর মন ভালো, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তাকে আইন মন্ত্রী করলেন।
যুদ্ধ অপরাধী বিচার শুরু করলেন, তিনি হাজার সংগ্রামী জীবন নিয়ে বঙ্গবন্ধু কি “কলাবরেটর আইন” করেছিলেন, আইন মন্ত্রী তা পড়ে দেখলেন না! দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারে তিনি খালাস হয়ে গেলেন হাইকোর্ট রায়ে! আ্যাপিলেট ডিভিশনে (সুপ্রিম কোর্টে) আপিল করতে হয়! আইনে বাদীর পক্ষে আপিল সুযোগ নাই! কি করা, আইন সংশোধন করো!
ভুল ভুল ভুল, রানিং বিচারে আইন সংশোধন করা যায় কি? সারা বিশ্ব জানলো “সরকার আদালতকে বিবাদীর বিরুদ্ধে মেনিপুলেট করছে তা ও আইন সংশোধন করে!
বদনামে দুর্গন্ধ ছড়ালো!
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি “জনাব আরিফিন স্যার
একজন ভালো মানুষ, আজপর্যন্ত আওয়ামী সব ভিসি আন্দোলনে বিতারিত, তিনি ব্যতিক্রম। কিন্ত তিনিও
কোটি টাকা খরচ করে “বিশ্ববিদ্যালয় স্মরণিকা ” ছাপালেন হাজার হাজার কপি, সন্মেলনের দিন সহস্র জনের হাতে পৌঁছে গেলো “স্মরণীকা খানি”, কেউ একজন দাড়িয়ে চীৎকার করলেন, “একি এ স্মরনীকায় জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক কেন?” তা হলে আওয়ামীলীগ মিথ্যা বলে, পাকিস্তানের মেজর সিদ্দিক সালিকের বই The witness to surrender” মিথ্যা বলে, হাইকোর্ট রায় মিথা বলে শুধু আরিফিন স্যার সত্যি বললেন, “জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক”!
কেন আমি ঢিলেঢালা বলি, আরিফিন স্যার পুরা মুদ্রন কপির প্রুফ নিজে পড়লেন না কেন? কেন ফাইনাল ছাপা হলো? আমরা ক্ষুদ্র ব্যক্তিরা যে বই প্রকাশ করি তার এডিটর পয়সা দেয়ার পরেও ফাইনালের আগে আমরা আবার দেখি বানান টা পর্যন্ত ঠিক আছে কি না?
আরিফিন স্যার কেন দেখলেন না, তার গঠিত বোর্ড কেন দেখলেন না? তাদের কি শাস্তি দিলেন, নিজে কি শাস্তি নিলেন?
ডেপুটি এ্যাটর্নী কে কে নিয়োগ দিয়েছেন? কেন তার চৌদ্দ পুরুষের কুষ্টি নামা গোয়েন্দা তদন্ত না করে নিয়োগ দিলেন? ইউনুস সাহেবের কোটি কোটি টাকা।
তিনি যে কাউকে পারচেজ করার ক্ষমতা রাখেন, যিনি বিশ্ব ব্যাংক কে মোটিভেট করতে পারেন— ১০৮ জন বিশ্ব বরন্য কে মোটিভেট করে বিবৃতি নিছেন, আপনারা ঘুমাচ্ছেন, আপনার ঘরেই উইকেট পড়ে যেতে পারে তা যদি না ভেবে থাকেন তা হলে মন্ত্রী মিনিস্টার হয়েছেন কেন, আমাদের কাতারে নেমে আসেন। একজন কে একবছর পরের ভাবনা করে রাখতে হয় তা না হলে কোন ক্ষমতা বলে মন্ত্রী হলেন, আমাদের মত লোক ডেকে তো মন্ত্রী করেন নাই। বিশেষ জ্ঞান না থাকলে মন্ত্রী হতে যেয়েন না!
আপনারা দুদক আইনজীবী থেকে এটর্নির পর্যন্ত গোয়েন্দা লাগায় রাখলেন না কেন?
ইমরান সাহেবকে আমেরিকান রাস্ট্র দূতের আশ্রয় দিতে হয়েছে, এটা আপনাদের কপালে কালিমা প্রলেপের জন্য বাস্তবতা তো তার জীবনে কোন হুমকি নাই বরং সামান্য একটা লোক বিশ্ব পরিচিতি পেলো। সারা বিশ্ব নির্বাচনের আগে জানলো বাংলাদেশে এই সরকার সত্যি বলতে দেয় না, মানবতা নাই, মন্ত্রী কে রাজনীতি জানতে হয়, তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় কামে আসতে হয়, লেজেগোবরে করবেন আর প্রঊান মন্ত্রী ছাড়াবেন?
মার্কিন তো ওঁৎ পেতে আছে আপনাদের বদনাম ছড়াতে। ডেপুটির চাকুরী থাকবে কি থাকবে না এসব ফালতু নিয়ে আইন মন্ত্রী কে ব্যস্ত দেখলাম টিভি ক্যামেরায়, আরো দশ জন ইউনূসের পক্ষে যাওয়া ঠেকাতে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?
১৯৭৫ সালে মোস্তাক কে ওতো মর্কিন দূতাবাসে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিলো, স্পেশাল পরিবহন পাঠায় আমেরিকা আশ্রয় দেয়ার আশ্বাস ছিলো। আমার মত শত কলম চালানো লোক লিখতেছেন, “বর্তমান সরকার মার্কিন টার্গেটে”, মার্কিন টার্গেট হলে America can take any dustic action, ক্যূ, ধর্ম আন্দোলন, গনতন্ত্র মানবাধিকার নামক আন্দোলন, ইত্যাদি করে সরকার পরিবর্তন করা, এমন কি রিজার্ভ আটকায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা —- সব লেখকদের সতর্ক মূলক লেখা আমরা পড়ি আপনারা পড়ার সময় পান না? ১৯৭৪ এ পয়সায় কেনা খাবার বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এসে ফেরত নিয়ে গেছে যা মানবতা আইন কানুন সব এথিকস বহির্ভূত! এসব ইতিহাস জানেন না?
ইমরান আজ পাকিস্তানের ইমরান খান কেও ছাড়ায় গেলো! তার চৌদ্দ পুরুষ বসে খেতে পারবে সে ব্যবস্হা ইমরানের হয়েছে, ইমরানের চাকুরী আপনারা খাবেন বলে যখন ঘুম হারাম করেছেন, আমার মত ক্ষুদ্র লেখক তখন হেসেছে আপনাদের প্রজ্ঞা দেখে!
আরে ভাই, “ইমরান চাকরি তে লাথি মেরে রিজাইন করে নাই এই আপনাদের সৌভাগ্য।” নিয়োগ দিবেন অপরীক্ষিত হাইব্রিড আর ফল আশা করেন তাজউদ্দীন নজরুলের মত মুজিব ভাইর সাথে জীবন দেয়া —
লাগাবেন আম গাছ আশা করবেন কাঠাল —-
হুশ হন আপনারা, পদে পদে বেকায়দায় পড়েন কেন, লোক হাসান কেন, বিশ্বের কাছে অপমানিত হন কেন?
জাতির জনকের সেই আওয়ামীলীগ কে অপদস্ত করার অধিকার আপনারা ঢিলেঢালা প্রশাসন এবং অপক্ব পরিকল্পনায় অলসতায় বার বার মিস ইউজ করছেন। শত সন্মানজনক কাজ করেও পচা শামুকে জাতির পা কাটছেন আপনাদের অজ্ঞতার জন্য!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।



